গার্ডারের নিচে ৪ ঘণ্টা চাপা পড়ে ছিল পাঁচ মরদেহ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ১১:১০ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার চাপায় নিহত পাঁচজনকে উদ্ধার করতে লেগেছে চার ঘণ্টা। এক্সেভেটর দিয়ে এবং প্রাইভেটকারের বিভিন্ন অংশ কেটে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহতরা হলেন, মো. রুবেল মিয়া (৬০), মোছা. ফাহিমা (৩৭), মোছা. ঝরনা (২৬), ঝরনার দুই সন্তান জান্নাতুল (৬) ও মো. জাকারিয়া (৪)। শুধু প্রাণে বেঁচে গেছেন হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) নামের নবদম্পতি। তারা আহত অবস্থায় উত্তরা আধুনিক মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নিহতদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর কাউলা এলাকায় নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়ার বউভাতের অনুষ্ঠান শেষ করে স্বজনেরা মিলে ওই প্রাইভেট কারে করে আশুলিয়ার বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পরেন তারা। নিহতদের সকলের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের ইসলাম পুরে।

প্রত্যক্ষদর্শী নির্মাণ শ্রমিক আজাদ দেশ রূপান্তদরকে জানান, প্রকল্পের কাজ চলাকালীন একটি গার্ডার ক্রেন দিয়ে তোলা হচ্ছিল। হঠাৎ ক্রেনটি গার্ডারসহ কাত হয়ে যায় এবং নিচ দিয়ে যাওয়া একটি প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডারটি পড়ে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এসময় ক্রেনের ড্রাইভার পালিয়ে যায়।  ঘটনার পর গার্ডার সরিয়ে প্রাইভেটকার থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। লিভার দিয়ে উঁচু করার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় সাড়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনা হয় একটি এক্সক্যাভেটর। সেটি দিয়ে কাত হয়ে থাকার ক্রেনটি সোজা করে সেটি দিয়েই প্রাইভেটকারের ওপর থেকে গার্ডার সরানো হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনেরা জানান, গত শুক্রবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে হয়। তারা আজ (সোমবার) ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। হৃদয়ের পরিবার দক্ষিণখান থানার কাওলা আফিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগানে আসরাফউদ্দিন চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তরা জসীম উদ্দীন এলাকায় আড়ংয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাইভেটকার থেকে নিহতদের কোনোভাবেই বের করা যাচ্ছিল না। রাত ৮টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। গার্ডারের নিচে প্রাইভেটকার চাপা পড়ে থাকায় মরদেহ বের করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারীরা। পরে এক্সেভেটর দিয়ে গার্ডার সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফায়ার সার্ভসের ঢাকা অঞ্চল-৩ উপ সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান বলেন, ১৫০ টন ওজনের গার্ডার হওয়ায় উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়নি। পরে এক্সেভেটর আনা হয়। এক্সেভেটর আনতে দেরি হওয়ায় উদ্ধার কাজ বিলম্ব হয়। এক্সেভেটর দিয়ে গার্ডার একটু উঁচু করে প্রাইভেকারের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর উত্তরা এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত