নরসিংদীর আদালত চত্বরে আওয়ামী লীগের ২ পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ০৮:৫৭ পিএম

নরসিংদী পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মানিক মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুলের আদালতে হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি ভেলানগর এলাকায় প্রকাশ্যে খুন হন নরসিংদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কমিশনার মানিক মিয়া। পরদিন তার ভাই আমির ইসলাম আমু বাদী হয়ে নরসিংদীর সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ও তার ভাই সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল ও সমালোচিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়ার স্বামী সুমনসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। ২০১১ সালে মামলার তিন নম্বর আসামি সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের মৃত্যুর পর বাকি ৯ জনকে নিয়েই চলতে থাকে মামলার কাজ।
  
এর মধ্যে, মামলা চলে যায় দ্রুত বিচারিক আদালতে। সেখান থেকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় ২১ বছর পর মঙ্গলবার মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল আদালতে হাজিরা দিতে আসে। এ সময় আদালত চত্বরে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে নিহত কমিশনার মানির মিয়ার স্বজনরা ও কয়েকশ' এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত কমিশনার মানিক মিয়ার ভাই আমিরুল ইসলাম আমু ও মো. হিরন মিয়া, মো. শাজাহান, মো. বেদন ভূইয়া, মো. জাকারিয়া, মো. ইয়ার আলামিন।

এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যা এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। হাজিরা শেষে কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় কামরুজ্জামান কামরুলকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয় সাধারণ জনতা ও বাদী পক্ষের লোকজন। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

মামলার বাদী আমির ইসলাম আমু সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিবারই বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং আজও আদালত প্রাঙ্গনে না আসতে ভয় দেখানো হয়েছে। আমরা দ্রুত ভাই হত্যার বিচার চাই।' 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত