প্রথম ম্যাচে দলীয় সংগ্রহই তিন অংকের ঘর স্পর্শ করেনি। ভুতুড়ে উইকেটে হাসেনি কারোরই ব্যাট। হতাশ করেছিলেন সৌম্য-সাব্বিররাও। তবে আজ যেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা ষোলকলা পূর্ণ করে দিতে চাইলেন। ওপেনিংয়ে নামা নাঈম শেখের সেঞ্চুরি ও ছয় নম্বরে নেমে সাব্বির রহমানের অর্ধশতক, তাতেই বাংলাদেশ এ দল পেয়ে যায় লড়াই করার মতো বড় সংগ্রহ। সিরিজে সমতায় ফিরতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দলকে ২৭৮ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছেন মিঠুনরা।
আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ এ দলের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। শুরুতেই হতাশ করেন সৌম্য সরকার। ১০ বল ক্রিজে টিকলেও মাত্র ৬ রান করেই ধরতে হয়েছে প্যাভিলিয়নের পথ। এই রানের মাঝেই আবার ছিল একটি চারের মার। সৌম্য বিদায় নিলে সাইফ হোসাইনকে সঙ্গে নিয়ে নাঈম ৫৭ রানের জুটি। তবে ২৩ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান সাইফ। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন নাঈমের সঙ্গে বাধেন লম্বা জুটি। ৯৩ রানের সেই জুটিতে মিঠুন করেছেন ২৮ রান। ৪৭ বলে সাজানো সেই ইনিংসে ছিল ৩টা চারের মার।
এক প্রান্তে যখন ব্যাটসম্যানরা সেট হয়েও ফিরে যাচ্ছিলেন, অন্য প্রান্তে তখন লড়াইটা একাই জারি রেখেছিলেন নাঈম শেখ। অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে জুটি বাধার পথেই তুলে নেন সেঞ্চুরি। তবে মিঠুন আউট হওয়ার পরেই তিনিও ফিরে যান। ফেরার আগে ১১৭ বলে ১০৩ রানের একটি ইনিংস খেলেন। ১৪টি চার ও এক ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি।
এরপরই মাঠে আসেন সাব্বির রহমান। ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি সংস্করণে কোনো পারফর্ম না করেও এশিয়া কাপের দলে জায়গা করে নিয়েছেন। কিন্তু এ দলের হয়ে প্রথম ম্যাচে সবাইকে করেছেন হতাশ। তবে এবার আর হতাশা নয়, স্বভাব জাত ব্যাটিংয়ে সব সমালোচনার যেন জবাব দিলেন তিনি। ৫৮ বল খেলে ৬২ রানের অনবদ্য ইনিংসটি ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল।
সাব্বির এসময় বড় দুটি জুটি গড়েন শাহদাত হাসান দিপু ও জাকের আলি অনিকের সঙ্গে। দিপুর সঙ্গে ৬৯ ও অনিকের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের শেষ ওভারে গিয়ে আউট হন। এতেই ৬ উইকেটে ২৭৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ এ দল। দিপু ২৪ রানের আউট হলেও অনিক ১৮ রানে ছিলেন অপরাজিত।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দলের হয়ে লুইস শেরমন ও চার্লস ব্রায়ান নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া ফিলিপ এন্ডারসন ও শামার স্প্রিঙ্গার শিকার করেন একটি করে উইকেট।
২৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে ওয়েস্ট এ দল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৮ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৩ রান সংগ্রহ করেছে ক্যারিবিয়রা।
