চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, হালিশহর ও ইপিজেড এলাকায় দুই মাস পর আবারও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত সোমবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ছয় দিনে এসব এলাকার ২৮৪ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এসব রোগীর মধ্যে অনেকের শরীরে কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মামুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে ২০-২২ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। কিন্তু গত ৫-৬ দিন ধরে হাসপাতালে বেশি ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছে। তাই হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েক রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি নমুনায় কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ ডায়রিয়া রোগী চট্টগ্রাম নগরীর নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকার। এরমধ্যে বেশিরভাগ রোগী নগরীর পতেঙ্গা, ফ্রি-পোর্ট, ইপিজেড, হালিশহর ও উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
বিআইটিআইডি হাসপাতালের তথ্য মতে, গত ৬ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার ৬৯, মঙ্গলবার ৫৭, বুধবার ৪৫, বৃহস্পতিবার ৪০, শুক্রবার ৪৬ এবং গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২৭ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
বিআইটিআইডি আরও জানায়, গত সোমবার ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় সাতজনের, মঙ্গলবার ১৮ জনের নমুনায় ১০ জনের, বুধবার ১২ জনের নমুনায় ৪ জনের এবং বৃহস্পতিবার ৮ জনের নমুনায় ২ জনের কলেরা শনাক্ত হয়েছে। বিআইটিআইডি ছাড়াও নগরী ও উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আরও অনেক রোগী ভর্তি রয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শুক্রবার থেকে সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে পাঠানো সাত সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে অবস্থান করছে। ওই দলে আছেন আইইডিসিআরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মো. ওমর ফারুক, এফইটিপিবি ফেলো ডা. সোনাম বড়ুয়া ও ডা. ইমামুল মুনতাসির, সহকারী সার্জন ডা. সাদিয়া আফরীন ও ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আজিজুর রহমান ও মো. আমিরুল ইসলাম। তারা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় কী কারণে হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে; তা নির্ণয়ে আইইডিসিআর থেকে পাঠানো টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে ওনারা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। আরও দুদিন নমুনা সংগ্রহ করবেন। নমুনাগুলো পরীক্ষানিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
