আগামী বছর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ব্যস্ত সূচি টাইগারদের। এই সময়ে তিন ফরম্যাটে ১৫০টি খেলবেন সাকিবরা। এর মধ্যে ৫৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে। পাশাপাশি অন্য ফরম্যাটের খেলাও রয়েছে। এতে করে কোচের ওপর বাড়তি চাপ থাকে বলে মনে করে বিসিবি। সেই চিন্তা থেকে টি-টোয়েন্টি থেকে সরিয়ে প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর দায়িত্ব কমিয়ে দিয়েছে বোর্ড। ক্রিকেট বোর্ডের এমন সিদ্ধান্ত মেনেও নিয়েছে এই দক্ষিণ আফ্রিকান।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য নতুন কোচিং প্যানেল বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই সংস্করণে টাইগারদের উন্নতি করতে টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শ্রীধরন শ্রীরামকে।
তবে টি- টোয়েন্টির দায়িত্ব হারালেও অন্য একটা দায়িত্ব বেড়েছে ডমিঙ্গোর। এখন থেকে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটও কিছুটা নজর দেবেন। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের কীভাবে এবং কোনো প্রক্রিয়ায় তাদের ফর্মজনিত সমস্যা ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর সমাধানে আসবেন, সেদিকেও তিনি মনোযোগ দেবেন। সেই কারণেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট এখন থেকে নিয়মিত তিনি অনুসরণ করবেন।
বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টি-টোয়েন্টিতে এই মুহূর্তে প্রধান কোচ বলে কেউ নেই। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে একজন থাকবেন।
সোমবার ডমিঙ্গোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিসিবিতে আলোচনায় বসেছিলেন সভাপতি নাজমুল হাসান। সেখানে টি-টোয়েন্টি দলের পরামর্শক শ্রীরামও উপস্থিত ছিলেন। গত কিছুদিন ধরে নাজমুল হাসান যে পরিবর্তনের কথা বলে আসছিলেন, আজ সেসব নিয়ে দুই কোচের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসানও।
ডমিঙ্গোর কি আর টি-টোয়েন্টিতে কোনো ভূমিকায় থাকছেন না? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি সভাপতি পাপন বলেন, আপনাদের দ্বিধার জায়গাটা প্রধান কোচ কে হচ্ছেন সেটা নিয়ে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই শ্রীধরন শ্রীরামকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়োগ দিয়েছি। এখনও অফিসিয়াললি প্রধান কোচ রাসেল। আমরা চাইলে তাকে এশিয়া কাপে পাঠাতে পারতাম। কিন্তু আমরা তো টি-টোয়েন্টিতে আলাদা কোচিং স্টাফ দিতে চাচ্ছি। সেখানে গেলে তার ভূমিকা হতো প্রশ্নবিদ্ধ। তাই তাকে আপাতত আমরা ব্রেক দিয়েছি।
তবে টি- টোয়েন্টির দায়িত্ব হারালেও অন্য একটা দায়িত্ব বেড়েছে ডমিঙ্গোর। এখন থেকে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজর দেবেন। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাদের ফর্মজনিত সমস্যা ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর সমাধানে আসবেন, সেদিকেও তিনি মনোযোগ দেবেন।
নাজমুল হাসান যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যা আলোচনা করেছি, ডমিঙ্গো আমাদের পরিকল্পনা দেবেন। আপনারা সবাই জানেন, এফটিপির সূচি বেশ ঠাসা। খুব খারাপ অবস্থা। কারও পক্ষে এভাবে সফর করা সহজ নয়। ও কী করবে, না করবে সেসব নিয়ে আমাদের একটা লম্বা পরিকল্পনা দেবে দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে।’
ডমিঙ্গোর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সে এনসিএল দেখতে চায়। এটা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমাদের ‘এ’ দলের যে খেলা আছে সেগুলো দেখতে চায়। আমাদের ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় কারা আছে সেগুলোও দেখতে চেয়েছে, যারা নাকি জাতীয় দলে নেই তাদের নিয়ে কাজ করবে।’
বিসিবির এমন সিদ্ধান্ত মেনেও নিয়েছেন প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। তিনি বলেন, বিসিবি আমার সঙ্গে আলোচনা করেছিল। তারা তাদের পরিকল্পনা আমাকে জানায়। আমি তাদের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছি। আমি এখন টেস্ট ও ওয়ানডে দলের সঙ্গে কাজ করব। মুমিনুলদের পারফরম্যান্সে কিভাবে উন্নতি ঘটানো যায় সেটাও দেখব।
ব্যস্ত এফটিপির কথা বলে ডমিঙ্গোকে টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব থেকে সরালেও ভেতরের খবর ভিন্ন। দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের টি-টোয়েন্টি দর্শন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যায় না বলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি। বেতন পাচ্ছেন সিরিজ বাই সিরিজ হিসেবে। তবে যে কোনও সময় এই চুক্তিও বিসিবি ভাঙতে পারবে। ডমিঙ্গোও যে কোনও সময় চাইলে চলে যেতে পারেন।
