মিয়ানমার অভ্যন্তরে থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে নিয়মিত। কিছুদিন ধরে সীমান্তের পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাখাইন রাজ্যে গোলাগুলি চলছে বলে জানিয়েছেন নো ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গাসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।
এ নিয়ে সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র বলছে, গত বেশ কয়েক দিন ধরে সীমান্তে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু, ঘুমধুম, চাকঢালা থেকে শুরু করে বান্দরবানের মদক সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় মিয়ানমার অভ্যন্তরে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এসব এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী আরকান আর্মি নামে একটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে জনশ্রুতি। আরকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রায় সময়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরকান আর্মির গোলাগুলি ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করছেন সীমান্তবাসী ও নো ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানিয়েছেন, মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার বসবাসকারীদের বাসাবাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গোলাগুলির শব্দে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে বসে কাজ করা যায় না। বাংলাদেশি বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছে।
তিনি জানান, মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে ক্ষণে ক্ষণে মর্টার শেলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে কারা এবং কেন গোলাগুলি করছে তা বোঝা যাচ্ছে না। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বসবাসরত আবদুল করিম জানান, সীমান্তের ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নাম্বার পিলারের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শাহাব বাজার এলাকায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গ্রুপ আরকান আর্মির দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি কোনারপাড়া নো ম্যানস ল্যান্ডে বসবাস করছে প্রায় চার হাজার রোহিঙ্গা। সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা কমিউনিটি লিডার দিল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, গত বেশ কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। মিয়ানমারের ওপারের সব এলাকায় আরকান আর্মি নামে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গ্রুপ বসবাস করে। তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়। গোলাগুলির শব্দে কেঁপে ওঠে নো ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গা ক্যাম্প।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হোসাইন কবির ফোন রিসিভ করেননি।
পরে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি গণমাধ্যমকে মিয়ানমারের সীমান্তের অভ্যন্তরে রাখাইন এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, গোলাগুলি যা হচ্ছে তা মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই হচ্ছে। বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সীমান্ত বিজিবির সদস্যরা এলার্ট রয়েছে। সীমান্তের যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
