চোটে জর্জরিত টাইগার দুর্গ। হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরিতে আগে থেকেই ছিলেন না লিটন দাস। নুরুল হাসান সোহানের হাতের ক্ষতও ভাবিয়ে তুলেছিল টিম ম্যানেজমেন্টকে। এছাড়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলে ছিল না কোনো বিকল্প ওপেনার। শেষ মুহূর্তে সোহান ও পেসার হাসান মাহমুদের ছিটকে যাওয়াতে যেন শাপেবর হলো। তাদের বদলি হিসেবে নাঈম শেখকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিসিবি।
নাঈমকে দলে রাখাতেও খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না টাইগার ভক্তরা। কারণ এখন পর্যন্ত ৩৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা এই ওপেনারের পরিসংখ্যান তার পক্ষে কথা বলছে না। তাই দলে তার অন্তর্ভুক্তির পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু নাঈম শেখের অভিষেকটা ছিল স্বপ্নের মতো। ছন্দপতনের কারণে ধস নেমেছে গড় আর স্ট্রাইক রেটে। আর সেটাই হয়ে উঠেছে এখন মূখ্য। তবে এসবে ঢাকা পড়ে গেছে এই ওপেনারের শুরুর গল্পটা।
জুয়াড়িদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করার দায়ে সাকিব তখন আকসুর নিষেধাজ্ঞায়। সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যায় ভারতে। সেখানে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভারত যায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই এই সংস্করণে ভারতের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায় টাইগাররা। ওপেনার তামিম ইকবালও তখন ছুটিতে ছিলেন। দলে তখন অভিষেক হয় এক তরুণের। শেষ ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে তিনি খেলেন ৮১ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। ৪৮ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় সাজানো ছিল বাংলাদেশি সেই তরুণের ইনিংসটি।
সেই তরুণটির নাম মো. নাঈম শেখ। ২০১৯ সালে অভিষেকের সিরিজটি তার স্বপ্নের মতো কেটেছিল। প্রথম ম্যাচে ভারতকে হারানো বাংলাদেশের হয়ে তিনি করেছিলেন ২৬ রান। তিন ম্যাচে ১৪৩ করেছিলেন এই ওপেনার। ৪৭.৬৬ গড়ে যার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৩.৬৪। সাকিব-তামিমের অনুপস্থিতিতে নবাগত এক তরুণের এমন পারফরম্যান্স আশা জাগিয়েছিল। তাকে নিয়ে বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ ভাবার জন্য নজর কেড়েছিল নির্বাচকদের।
তারপরও অনেক নজরকাড়া ইনিংস নাঈম খেলেছেন। পেয়েছেন চারটি অর্ধশতকের দেখা। তবে তার এই ফর্মের ধারাবাহিকতা নেই। গত বছর জিম্বাবুয়ে সিরিজের তিন ম্যাচের প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ৮ রান পেলেও শেষ ম্যাচে খেলেন ৬৩ রানের এক ইনিংস। এভাবেই তার ব্যাট ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো হেসে উঠে। যা প্রভাব পড়েছে ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানে।
অভিষেক সিরিজে যে নাঈম শেখের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৪ এর কাছাকাছি, গড় ছিল প্রায় ৪৮। সেই নাঈমের গড় এখন অর্ধেক হ্রাস পেয়েছে। সাড়ে ২৪ গড়ে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেটও মাত্র ১০৩.৭১। যা টি-টোয়েন্টিতে মোটেও আদর্শ নয়। এরপর ২০২১ সালে টাইগারদের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। কিন্তু সেটাও ২৬ ম্যাচ খেলে। যেখানে বাবর আজম তার চেয়ে মাত্র তিনটি ম্যাচ বেশি খেলে করেছিলেন সর্বোচ্চ ১৩২৬ রান। তাই এশিয়া কাপে নাঈমের দলভুক্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এবারের এশিয়া কাপ হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা আছে নাঈমের। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের সব খেলা সেখানেই হয়েছিল। তাই সেখানকার উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচয় আছে নাঈমের। সেবার পাঁচ ম্যাচ খেলে তিনি করেছিলেন মাত্র ১১০ রান। সর্বোচ্চ ৬২ রানের একটি ইনিংস থাকলেও তার গড় ছিল মাত্র ১৮, স্ট্রাইক রেট ১০২.৮০।
নাঈম গত মার্চে মিরপুরে সবশেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই সিরিজেও নাঈমের ব্যাট হাসেনি। ম্যাচ দুটির প্রথমটিতে ২ রান এবং পরেরটিতে মাত্র ১৩ রান করেই আউট হয়ে যান তিনি। তারপর হয়নি কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টও। কিন্তু এই সংস্করণে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফের দলে সুযোগ পেয়েছেন নাঈম।
অবশ্য নাঈমকে নিজেকে প্রমাণের জন্য বড় একটা মঞ্চ করে দিয়েছিল বিসিবি। এ দলের সদস্য হয়ে নাঈম গিয়েছিলেন ক্যারিবিয় সফরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে শতরানের একটি ইনিংস খেলে ম্যাচ জয়ে অবদান রাখেন। আর ওয়ানডে ফরম্যাটের শতরানের ইনিংস তাকে জায়গা করে দিয়েছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে।
তাকে দলে নেওয়ার কারণ হিসেবে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘সোহানের চোটের কারণেই নাঈমকে নেওয়া। সোহানের এক্স-রে রিপোর্ট ভালো নয়। আরও সময় লাগবে ওর। আমাদের স্কোয়াডে ওপেনার ছিল মাত্র দুজন, এজন্য আরেকজনকে নিলাম। কেউ খুব ভালো কিছু করেনি এই ফরম্যাটে। কাউকে না কাউকে নিতে হবে। এজন্য বিকল্প ওপেনার হিসেবে নাঈমকে নেওয়া হয়েছে।’
