সবশেষ বিশ্বকাপে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে পারফরম্যান্স দিয়ে দাপট দেখাবেন তিনি। এবার এশিয়া কাপে তিনি যাচ্ছেন অধিনায়ক হয়ে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে সাকিব নেতৃত্বে ফেরায় টাইগাররা নতুন করে উজ্জীবিত হবেন বলে মনে করছেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার শেন ওয়াটসন। বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণে সাকিবের পারফর্ম দেখে মুগ্ধতার শেষ নেই সাবেক এই অজি তারকার।
টেস্ট অধিনায়ক সাকিবকে সদ্যই পেয়েছেন টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশকে। যার শুরুটা হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশিয়া কাপ দিয়ে।
সাকিব বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা হয়ে গেছেন অনেক দিন আগেই। ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৩৮৩ ম্যাচ। রান করেছেন ১৩ হাজারের বেশি, উইকেট নিয়েছেন ৬৩১টি।
.jpg)
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখনও পায়ের নিচে জমিন শক্ত করতে লড়ছে বাংলাদেশ। সাকিবকে আবার টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে ফেরানো সঠিক সিদ্ধান্ত কি-না, এমন প্রশ্নে আইসিসি রিভিউয়ে সোমবার ওয়াটসন তুলে ধরলেন নিজের ভাবনা, ‘অবশ্যই! সাকিবের মতো একজন নেতা পাওয়া, আমি মনে করি এটি তাদের (বাংলাদেশ দল) নতুন করে উজ্জীবিত করবে। সে অনেক অভিজ্ঞ। অনেক ম্যাচে সে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও অধিনায়কত্ব করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে।’
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন সাকিব। ৮ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান করেছিলেন ৮৬.৫৭ গড়ে। উইকেট ছিল ১১টি। বিশ্বকাপের কোনো আসরে এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি আর কেউ। ১০ উইকেটের পাশে ৪০০ রানও ছিল না আগে আর কারও।
সামনের এশিয়া কাপ ও অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সাকিবের দাপুটে পারফরম্যান্সের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন ওয়াটসন। এমন কিছু না হলে বরং অবাকই হবেন জানিয়ে বলেন, ‘চাপের মুখে তার সিদ্ধান্তগুলো দলের জন্য অনেক মূল্যবান হবে। তার নিজেকে প্রমাণের একটা বিষয়ও আছে। আর বিশ্বমানের একজন ক্রিকেটারের যদি নিজেকে প্রমাণ করার থাকে এবং সফল হওয়ার দৃঢ়তা থাকে, তাহলে ওই ক্রিকেটার দাপুটে পারফরম্যান্স করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, সাকিব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপে রাজত্ব না করলে আমি খুব অবাকই হব।’
ওয়াটসন নিজে ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ভালো করেই জানেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা ধকল যায় একজন অলরাউন্ডারের ওপর দিয়ে। এটিই সাকিবের অর্জনগুলোকে আরও মূল্যবান করে তোলে বলে মনে করেন ওয়াটসন।
এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে পারি, অলরাউন্ডারের কাজটা খুব চ্যালেঞ্জিং। যখন আপনি দিনের পর দিন খেলবেন তখন নিজের যত্ন নিতে হয় এবং শক্তি সংরক্ষণ করতে হয়। আর ব্যাটিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বজায় রাখতে হয়।’
ওয়াটসন যোগ করেন, ‘সাকিব ঠিক এটিই করেছে। অনেক কঠিন। বাইরে থেকে মনে হতে পারে একজন স্পিনিং অলরাউন্ডার, বাঁহাতি স্পিনারকে হয়তো খুব বেশি শারীরিক পরিশ্রম করতে হয় না। কিন্তু উপমহাদেশের কন্ডিশনে সে অনেক বোলিং করছে। এরপর আবার দলের ব্যাটিং লাইনআপেও মূল ভূমিকা পালন করছে।’
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর দাপট যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে সাকিবের মতো সফলভাবে কাউকে তিন সংস্করণে খেলতে দেখা বিরলই হবে বলে মনে করেন ওয়াটসন, ‘তাকে তিন ফরম্যাটে খেলতে দেখা বিশেষ কিছু। যেভাবে খেলার পরিমাণ বাড়ছে, সেই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটও আছে, আগামীতে সাকিবের মতো সফলভাবে কাউকে তিন ফরম্যাটে খেলতে দেখা বিরল ব্যাপার হবে। ৩৫ বছর বয়সে প্রায় তিন ফরম্যাটেই ৩০ এর ওপরে ব্যাটিং গড় আর ৩০ এর নিচে বোলিং গড়ে ১৫ বছর ধরে বল করে যাওয়া বিশেষ কিছু।’
