কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় নিয়ম না মেনে গ্রামের মাঝে আবাদি জমিতে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণকাজ শুরু করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
আবাদি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশ ওই এলাকার কৃষকেরা। এদিকে সরেজমিন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের জনবসতি এলাকা ফকিরের কুঠি গ্রামে প্রস্তাবিত ইটভাটা নির্মাণকাজ শুরু করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুর রহমান বকুল।
ওই এলাকায় ১৭০ পরিবার ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আবাদি জমিতে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে অবৈধভাবে এবং স্থানীয়দের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা নির্মাণের কার্যক্রম অভিযোগ ওই এলাকার বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা বলেন, বাধা দেয়ায় তারা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং তাদের উপরে অনেক কর্মকর্তা আছে বলেও আমাদের ভয় দেখাচ্ছে।
ওই এলাকার সাইফুল, আমজাদসহ অনেকে জানান, ভাটার মালিক কতিপয় কৃষককে ভুলিয়ে ভালিয়ে দো-ফসলি কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ ও মাটি সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখানে ভাটা হলে পরিবেশ নষ্ট হবে, এলাকায় এর প্রভাব পড়বে সঙ্গে কমে যাবে কৃষি জমি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছি না, ভাটার মালিক নিয়মনীতি না মেনেই চালিয়ে যাচ্ছে ভাটার কার্যক্রম।
দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ইটভাটা মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান বকুল বলেন, নিয়ম মেনেই ইটভাটা নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় বিষাণ দাস বলেন, বিষয়টি জেনেছি, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
