রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে একই জায়গায় বিএনপি ও ছাত্রলীগের সমাবেশ ডাকাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসনে।
শনিবার(২৭ আগস্ট) রাতে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৮ আগস্ট (রোববার) উপজেলা সদর বড়ইছড়ি এলাকায় বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে একই স্থানে একই সময়ে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে মর্মে সংবাদ পাওয়া গেছে। এতে জনজীবনে অসুবিধা ও উপজেলার স্বাভাবিক শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা ও আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থে কাপ্তাই উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে রোববার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাপ্তাই উপজেলা সদর এবং এর আশেপাশের এলাকায় সকল প্রকার সমাবেশ, মিছিল, লোক সমাগম ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী সকল অবৈধ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অত্র এলাকায় ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মামুন জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিই। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীমসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সমাবেশের জন্য আমরা লিখিতভাবে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করি এবং মৌখিকভাবে অনুমতি নিই। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারলাম একই স্থানে একই সময়ে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন সমাবেশের ডাক দিয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তারা বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করে বিএনপির কর্মসূচিতে বাঁধা সৃষ্টি করা যাবে না।
কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম নুর উদ্দিন সুমন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ আর লিমন এবং ওয়াগ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়েদ হোসেন জাবেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আগুন সন্ত্রাসের ঠিকানা, কাপ্তাই উপজেলায় হবে না।
তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রোববার বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দও উপস্থিত থাকবেন।
এ বিষয়ে কাপ্তাই থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, যেকোনো নাশকতা, দাঙ্গা হাঙ্গামা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করতে এবং শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে পুলিশ মাঠে থাকবে।
