'আ.লীগের দিনে রাজনীতি করার সাহস নেই, তাই রাতে হামলা'

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ১০:৩৩ পিএম

যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয় ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামসহ জেলার চার শীর্ষনেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শহরের ঘোপে পিলু খান সড়কে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলাম, উপশহরের বিএনপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ সাবেরুল হক ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান এবং শহরের ধর্মতলা এলাকায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে পরিদর্শনে যান।

বিকেলে স্থায়ী কমিটির দুই নেতা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'আওয়ামী লীগের দিনের বেলায় রাজনীতি করার সাহস নেই। তাই দুর্বৃত্তের মতো রাতের বেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা করছে। আওয়ামী লীগ দুর্বৃত্তের দল। তারা পুলিশের ওপর ভরসা করতে পারছে না। এজন্য দলের ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।'

তিনি বলেন, 'আমরা আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে পারি। বাধা আসলে আমরা প্রতিরোধ করবো। আক্রমণ আসলে প্রতি আক্রমণ করবো। কিন্তু জনগনের রেভিনিউয়ের টাকা দিয়ে গুলি কিনে সরকারকে টিকানোর জন্য হাতিয়ার বাহিনী আছে। সেই হাতিয়ার বাহিনীকেও মোকাবিলায় প্রস্তুত আছি। ইতোমধ্যে দুই ভাই ভোলায় শহীদ হয়েছেন এই হাতিয়ার বাহিনীর হাতে। এই সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হলে রাজপথ রঞ্জিত হবে, এটা আমরা জানি। জেনেশুনেই আমরা এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।'

বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হবে না, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা করেন না, আর যা করেন তা বলেন না। এটা এক ধরণের প্রতারণা। জনগণকে ধোঁকা দেয়া। প্রশাসনের মধ্যে অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্য আছে। যারা রাতের আঁধারে ভোট কাটতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। হাসিনা সরকার টিকে থাকার চেয়ে তারা বেশি আতংকিত ভবিষ্যতে চাকরি থাকবে কি না? এ কারণে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে যতটা না আগ্রহ, তার চেয়ে বেশি উৎসাহ তাদের (পুলিশ)। পুলিশের কাজ আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন করা পুলিশের কাজ। কিন্তু পুলিশ দুষ্টের পালন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু বলেন, খুলনা-যশোর-মাগুরায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পণ্ড করা হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে খুলনা বিভাগ অচল করে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। সমাপনী বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় সদস্য সাবিরা নাজমুল, আবুল হোসেন আজাদ, খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এস এম শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত