খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহীদুর রহমান খানের ৯ আত্মীয়ের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে উপাচার্যের নিজের পুত্র-কন্যা, শ্যালক-শ্যালিকা, ভাতিজাসহ আরও কয়েকজন আত্মীয়স্বজনকে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এমনকি উপাচার্য তার স্ত্রীকেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলমের সই করা এক চিঠিতে উপাচার্যকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘বিষয় বিশেষজ্ঞ’ ছাড়া একই ব্যক্তিদের দিয়ে বাছাই বোর্ড গঠন করে ২০টি বিষয়ে নিয়োগ দেওয়া শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
২০১৫ সালে জাতীয় সংসদে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম উঠেছে।
সূত্র জানায়, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের পাঁচ সদস্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি। তদন্ত কমিটি উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পায়। গত জানুয়ারিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সম্প্রতি নিয়োগের ব্যাপারে নির্দেশনা দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য হিসেবে শহীদুর রহমানের মেয়াদ শেষ হবে।
