ড্রেস কোড না মানায় শিক্ষার্থীকে তিরস্কার ও বেত্রাঘাত: স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৫ পিএম

নরসিংদীর শিবপুরে ড্রেস কোড না মানায় স্কুল শিক্ষার্থীকে তিরস্কার ও বেত্রাঘাত করায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর বিষপানে আত্মহত্যা করে ৮ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা গাঢাকা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্কুল ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর আগে শিক্ষিকাকে দায়ী করে থানায় অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )সালাউদ্দিন মিয়া।

স্কুলছাত্রী প্রভা (১৩) শিবপুরের বাঘাবো জয়মঙ্গল গ্রামের প্রবাসী ভুট্রো মিয়ার মেয়ে।

স্কুল ও থানা সূত্রে জানা যায়, প্রভা শিবপুর সরকারী পাইলট  মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও সে স্কুলে আসে। নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের নির্ধারিত সালোয়ার কামিজের রং সাদা ও সাদা পায়জামা। প্রভা স্কুলে আসার সময় সাদা সালোয়ার কামিজ পরলেও সাদা গ্রে কালারের ট্রাউজার পরে স্কুলে আসে। স্কুলে টিফিন শেষে বেলা পৌনে ৪টার দিকে শারীরিক চর্চার ক্লাস নিচ্ছিলেন স্কুলের শিক্ষক নার্গিস সুলতানা কনিকা। ওই সময় ড্রেস কোড না মানার কারণে প্রভাকে তিরস্কারসহ কয়েকটি বেত্রাঘাত করেন কনিকা।

এরপর ক্ষোভে ও অভিমানে স্কুল থেকে বের হয়ে বাজার থেকে ইঁদুর মারার ট্যাবলেট কিনে পান করে প্রভা। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রভা শিবপুর থানায় যায়। সেখানে গিয়ে থানায় কর্মরত ডিউটি অফিসারের কাছে স্কুল শিক্ষিকা নার্গিস সুলতানা কনিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।

প্রভা অভিযোগে উল্লেখ করে, ওই শিক্ষিকা সব সময় কারণে-অকারণে তাকে তিরস্কার করেন এবং সব শিক্ষার্থীর সামনে অপমান করেন। তাই সে বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তার মৃত্যুর জন্য শিক্ষিকা দায়ী। এর পরপরই প্রভা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে থানা পুলিশ দ্রুত স্কুলের প্রধান শিক্ষককে খবর দেয় এবং স্কুলছাত্রীকে শিবপুর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্কুল শিক্ষিকা গাঢাকা দিয়েছেন।

শিবপুর সরকারী পাইলট  মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মো. আলমগীর বলেন, ড্রেস কোড না মানার কারণে স্কুলছাত্রীকে শাসন করা হয়েছিল। এতে সে অপমানিত বোধ করে এ পথ বেছে নিয়েছে। আমরা জানার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, বিকেলে এক শিক্ষার্থী থানায় আসেন। এসে স্কুলের শিক্ষিকা কনিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, প্রভার মৃত্যুর জন্য শিক্ষিকা কনিকা দায়ী। ওই শিক্ষিকা তাকে প্রায় সময়ই ইচ্ছাকৃত ভাবে অপমান-অপদস্থ করেন। তাই সে ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ কথা বলতে বলতেই স্কুলছাত্রী ঢলে পড়ে যায়। পরে থাকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীর অভিযোগটি আমরা আমলে নিয়ে শিক্ষিকাকে আটকে অভিযান শুরু করেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত