‘প্রেমিকের মা-ভাইয়ের অপমান সইতে না পেরে’ কিশোরীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:১২ পিএম

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় প্রেমিকের মা ও ভাইয়ের অপমান সইতে না পেরে এক কিশোরী (১৭) আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চরলক্ষীপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিহত সুরভী আক্তার (১৭) উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের চরলক্ষীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ওঝার মেয়ে। তিনি স্থানীয় সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রুদ্রকর ইউনিয়নের সোনামুখী গ্রামের মৃত মজিদ তালুকদারের ছেলে আল-আমিন তালুকদার ও সুরভি স্থানীয় সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে এক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি উভয় পরিবারে জানাজানি হলে দুজনকে আলাদা করার জন্য কিছুদিন আগে আল-আমিনকে তার পরিবার ঢাকায় নিয়ে যায়। তারপরও আল-আমিন ও সুরভীর যোগাযোগ চলতে থাকে। 

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে সুরভী স্কুলে যান। আল-আমিনের মা পারভিন বেগম ও বড় ভাই পারভেজ তালুকদার হঠাৎ স্কুলে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে সুরভীকে বলে তুই আল-আমিনের সাথে যোগাযোগ করস কেন? এই বলে সুরভিকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও জুতোপেটা করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তার দপ্তরীকে দিয়ে সুরভীকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

দুপুরের দিকে সুরভী ঘরের একটি রুম বন্ধ করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

সুবচনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি জানতাম না। তবে সুরভী শরীর অসুস্থ বললে, তাকে আমি দপ্তরী দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। পরে শুনি আত্মহত্যা করেছে। এমন হবে ভাবতেই পারিনি।

সুরভীর মা ডলি বেগম বলেন, ‘স্কুলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে আল-আমিনের মা পারভীন ও ভাই পারভেজ আমার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।  আবার জুতা দিয়ে পিটিয়েছে। মেয়ে এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আমার মেয়েকে আত্মহত্যা করাতে বাধ্য করানো হয়েছে।’ 

ঘটনার পর আল-আমিনের মা ও ভাইসহ সকলে পালিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ঢালী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমার কাছে দুই পরিবারের কেউ আসেনি। আমি চাই ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। 

শরীয়তপুর সদরের পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় মামলা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত