বাগেরহাটের শরণখোলায় কুলসুম আক্তার সাথী (১৯) নামের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে নাটোরের বড়াইগ্রামে বিনা খাতুন (১৮) নামে অন্য এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। গতকাল রবিবার দিনের ভিন্ন সময়ে ঘটনা দুটি ঘটে।
বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রাম থেকে গতকাল দুপুরে কুলসুম আক্তার সাথীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কুলসুম দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের সাইকেল মেকানিক আরিফ ফরাজির স্ত্রী।
নিহতের ফুফাতো ভাই আবদুর রহিম অভিযোগ করেন, এক বছর আগে আরিফের সঙ্গে বিয়ে হয় কুলসুমের। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। রবিবার সকালে আরিফ ফোন করে কুলসুম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। কিন্তু কুলসুমকে তার স্বামী শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে দাবি তার।
এদিকে নাটোরের বড়াইগ্রামে নিহত বিনা খাতুন উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের চৌমুহন গ্রামের মোটরসাইকেল মেকানিক মাসুম সরকারের স্ত্রী। নিহতের শরীরের একাধিক জায়গায় কালো দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী মাসুম সরকার (২০) ও তার পিতা শামসুল ইসলাম সরকারকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, তাদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব-কলহ লেগেই থাকত। এ নিয়ে একাধিকার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। রবিবার ভোরে মাসুম হঠাৎ তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে স্বজনসহ প্রতিবেশীরা গিয়ে বিনার লাশ বিছানার ওপর শোয়ানো দেখতে পায়। এ সময় মাসুম জানায়, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তবে বিনা খাতুনের বড় ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতিসহ পরিবারের সদস্যরা মাঝে মাঝেই আমার বোনকে মারপিটসহ মানসিক নির্যাতন করত। রাতের বেলায় আমার বোনকে পিটিয়ে হত্যা করে তারা আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।’
