ইনিংসের অষ্টাদশ ওভারে বল করছিলেন রভি বিষ্ণুই, আসিফ আলির উড়িয়ে মারতে চেয়ছিলেন। এজ হয়ে সেটা শর্ট থার্ডম্যানে দাঁড়িয়ে থাকা আর্শদ্বীপের হাতে যায়। কিন্তু সহজ ক্যাচটি তালুবন্দী করতে পারেননি ২৩ বছর বয়সী ভারতীয় এ পেসার। ভারত সমর্থকদের অনেকেই এ ক্যাচ মিসকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন। স্বাভাবিকভাবে তাই ক্রিকেট ভক্তদের তোপের মুখে এখন আর্শদ্বীপ। তবে এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়ালেন সতীর্থ ভিরাট কোহলি ও প্রতিপক্ষ দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজকে।
ক্যাচ মিসের পর ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা তখন মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। দেখান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। ডাগ আউটে কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে তীব্র হতাশা। শূন্য রানে যখন জীবন পেলেন আসিফ, তখনও জিততে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৫ বলে ৩১ রান। পরের ওভারে তিনি ভুবনেশ্বর কুমারকে লং-অং দিয়ে ওড়ান বিশাল এক ছক্কা। ওভারের শেষ বলে মারেন চার।
শেষ ৬ বলে যখন প্রয়োজন ৭ রান। আর্শদিপের দ্বিতীয় বলে চার মেরে দেন আসিফ। ৮ বলে ১৬ রান করে যখন তিনি ফেরেন, পাকিস্তানের চাই ৪ বলে দুই রান। প্রতিপক্ষের দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্যে রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান জিতে যায় ৫ উইকেট ও ১ বল হাতে রেখে।
পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার হাফিজের মতে, ক্রিকেটে এমন ভুল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সোমবার ২৩ বছর বয়সী আর্শদিপকে ট্যাগ করা টুইটারে তিনি ভারতীয়দের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন, ‘ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি আমার অনুরোধ। খেলাধুলায় আমরা ভুল করি, কারণ আমরাও তো মানুষ। এই ভুলগুলো নিয়ে কাউকে দয়া করে হেনস্তা করবেন না।’
ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের ওপর পেয়ে বসে প্রবল চাপ। আর্শদিপের এই ক্যাচ ছাড়ার পেছনে স্নায়ুচাপের প্রভাবই দেখছেন কোহলি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও রোববার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি,‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে আমি বাজে একটি শট খেলে আউট হয়ে গিয়েছিলাম। চাপে যে কেউ ভুল করতে পারে। খারাপ লাগা স্বাভাবিক। এখন দলের পরিবেশ বেশ ভালো, কৃতিত্ব ম্যানেজমেন্ট ও অধিনায়কের। একজন ক্রিকেটারকে তার ভুল স্বীকার করতে হবে, সেটা সমাধান করতে হবে এবং আবারও চাপের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মুখিয়ে থাকতে হবে।’
