মাগুরার মহম্মদপুরের নহাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের জেরে পুনরায় হামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে ৫ গ্রামের পুরুষরা এখন বাড়িছাড়া। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জের ধরে গত ১ সেপ্টেম্বর নহাটা ইউনিয়নের পানিঘাটা এলাকায় নৌকার সমর্থকরা অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে ওই ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের করা মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ অবস্থায় সম্ভাব্য হামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে চাকুলিয়া, বেজড়া, নহাটা, নারান্দিয়া ও পানিঘাটা গ্রামের পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখন সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ইউপি নির্বাচনে নহাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন আলী মিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী হন তোরাপ হোসেন। নির্বাচনে তোরাপ হোসেন জয়ী হন। এই নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১ সেপ্টেম্বর নৌকার সমর্থকরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তোরাপ হোসেনের সমর্থক আফসার উদ্দিন মোল্যা, আলীবর মোল্যা, নেছার মোল্যা, ইকরাম হোসেন, রতন মোল্যাসহ অনেকের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়।
নহাটা গ্রামের আলীবর রহমানের স্ত্রী সাথী পারভিন বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান (বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) মোস্তফা কামাল লিটন বিএনপির লোকদের নিয়ে সামাজিক দল গঠন করেন। আমাদের পুরুষদের ওই মিটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে। মিটিংয়ে আমাদের পরিবারের কেউ না যাওয়ায় তারা আমাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেন। বাড়িতে এখন নারীরা ছাড়া কোনো পুরুষ নেই। আবারও হামলার ভয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।’
নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান তোরাপ হোসেন বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই লিটন ভাই ও আলী ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। দুজনেই এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। অল্প কিছুদিন আগে তারা একত্র হয়ে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও মামলা করেছেন। আমি চাই ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে থাক।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল লিটন বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। যা পরে গোটা ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
নহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আবুল কাশেম বলেন, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর সামাজিক বিরোধের জের ধরে দুদল গ্রামবাসী মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ সময় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এলাকায় শৃঙ্খলা বৃদ্ধিতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
কৃষককে কুপিয়ে হত্যা : অন্যদিকে গত ইউপি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর বিরোধের জের ধরে মহম্মদপুর উপজেলায় কানুটয়ায় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আতর আলী লস্কর (৬৫) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। নিহত আতর আলী আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি মহম্মদপুরের বিনোদপুর ইউনিয়নের উরুরা গ্রামের মৃত রজব লস্করের ছেলে।
গত রবিবার বিকেলে কানুটিয়া সাপ্তাহিক হাটে বাজার করতে এসে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন আতর আলী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
