যশোর শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মুড়–লি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষ। দুই বছরের অধিক সময় ধরে ১৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের এ সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যশোর শহরের সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের উন্নয়নকাজের স্থবিরতার কারণে মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০২০ সালের অক্টোবরে সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের দায়িত্ব পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। দরপত্রের কার্যাদেশে চলতি বছরের জুনের মধ্যে সড়কটির শতভাগ কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় ঠিকাদারকে। তবে সড়কের দুই পাশের জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে কিছু জটিলতার কারণে ঠিকাদারের কার্যাদেশ পেতে প্রায় ৬ মাস অপেক্ষা করতে হয়। যে কারণে নির্ধারিত মেয়াদে সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত আবারও কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এদিকে মেয়াদ বাড়ানো হলেও সড়কটির কাজের কোনো গতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। শুধু রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হলেও বাকি কাজের শম্বুকগতি। যে কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে জনভোগান্তির মূল কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে; বিশেষ করে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যশোর-খুলনা রুটের বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। খানাখন্দে ভরা সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিকল হয়ে পড়ছে। দিনরাতের অধিকাংশ সময়ই সড়কের মণিহার মোড় থেকে বকচর কোল্ডস্টোরেজ পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে।
শরিফুল ইসলাম নামে খুলনাগামী একটি বাসের চালক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে আমরা কষ্ট ভোগ করছি। অথচ সড়কের কাজ শেষ হচ্ছে না। মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ করতে এত দিন সময় লাগে এমন নজির কোথাও নেই।’
সাখাওয়াৎ হোসেন নামে অপর এক ট্রাকচালক বলেন, ‘সড়কের সামান্য এই অংশটুকু মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। জরাজীর্ণ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের উন্নয়নকাজের এমন ধীরগতি মেনে নেওয়া যায় না।’
ঠিকাদার শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটির উন্নয়নকাজের ওয়ার্কওয়ার্ডার বুঝিয়ে দিতে একটু বিলম্ব করে। এর বড় কারণ ছিল জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ স্থাপনা জটিলতা। এরপর উন্নয়নকাজের যাবতীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা কিছুটা সমস্যায় পড়ি। সব মিলে কাজের গতি প্রথম দিকে কিছু সময় কম থাকলেও এখন আমরা পুরোদমে কাজ শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধার পর বৈশি^ক যে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তার বড় একটি প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশের রড-সিমেন্টসহ যাবতীয় নির্মাণসামগ্রীর ওপর। এ কারণে আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের চার লেনের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি আগামী বছরের জুনের আগেই সড়কটির শতভাগ কাজ শেষ হবে।’
