ঢাকার চারপাশের নৌপথকে কাজে লাগাতে টঙ্গী নদীবন্দর থেকে ঢাকা বৃত্তাকার নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে টঙ্গী থেকে কড্ডা পর্যন্ত ১৫০ টাকা ও টঙ্গী থেকে উলুখুল (কালীগঞ্জ) পর্যন্ত ১২০ টাকা স্পিডবোটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই দুটি নৌরুটে পাঁচটি স্পিডবোটে চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিডবোট সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। এসময় টঙ্গীতে ইকোপার্ক উদ্বোধন করা হয়। ইকোপার্কে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নৌপথকে কাজে লাগাতে হবে। নদীর দুই পাশ দখলমুক্ত ও মানুষের কল্যাণে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানান্তর করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের মানুষের একটি চাহিদা ছিল নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। নৌপথে উন্নয়ন ঘটলে সড়কপথে যানজটের ভোগান্তি কিছুটা কমবে। তাছাড়া ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনে নদীপথে ব্যয় কমাবে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টঙ্গী নদীবন্দর থেকে ঢাকা বৃত্তাকার নৌপথে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অতিমুনাফার লোভে আমরা নদী দূষণ করে সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি। গাজীপুরে প্রায় তিন হাজার শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। বেশিরভাগ কলকারখানা কর্তৃপক্ষ ইটিপি থাকা সত্ত্বেও সেটি ব্যবহার না করে দূষিত পানি সরাসরি নদীতে ফেলে নদী ধ্বংস করছেন। এসব বর্জ্য যেন নদীতে ফেলা না হয় তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মনিটরিং করবে।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, নৌপুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।
