লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাধি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়া ও নামফলক মুছে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।
এ ঘটনা তদন্তে সংসদ সচিবালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়রে সমন্বয়ে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।
রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গুলিস্তান কমপ্লেক্স ভবন নিয়ে বেসরকারি একটি টেলিভিশন ‘একপেশে’ সংবাদ পরিবেশন করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। ওই টেলিভিশনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতে লালমনিরহাটের বিষয়টি আলোচনায় আসে। আলোচনার এক পর্যায়ে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবিতকালে নানাভাবে অবহেলিত হয়েছেন। এসব ঘটনা ঘটতে দেওয়া যাবে না। বৈঠকে পর শাজাহান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, লালমনিরহাটের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কবর সরেজমিন দেখে প্রতিবেদন দেবে কমিটি।
কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এ বি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশ নেন।
বৈঠকে ৩০তম সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা; বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য বার্ষিক প্রদেয় ৭৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতার সঙ্গে সমন্বয়; মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষে-বিপক্ষে মোট মামলার সংখ্যা, কয়টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তার সংখ্যা; মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গুলিস্তান কমপ্লেক্স ভবন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলামের থেকে প্রাপ্ত আবেদনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অভিজ্ঞ আইনবিদদের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জমি, সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
তা ছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গুলিস্তান কমপ্লেক্স ভবনে অবৈধভাবে দখলকৃত দোকান, চিলেকোঠা, সিঁড়ি এবং নবম তলায় দাহ্য পদার্থের দোকান দ্রুততম সময়ের মধ্যে খালি করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
তথ্য অধিকার আইন অনুসরণ না করে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রচার বা প্রকাশ না করা এবং বেসরকারি ওই টিভির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কমিটি সুপারিশ করে।
এ ছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সিরাজুল ইসলামের দুর্নীতি সংক্রান্ত সব তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার যাবতীয় পেনশন ও অন্যান্য সুবিধাদি বন্ধ রাখার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
