মেটারনিটি সময়কালীন পোশাকও যে কখনো ফ্যাশনের ট্রেন্ড হতে পারে অনেকেই ভাবতে পারেননি। কভিড-পরবর্তী আমাদের জীবনযাপন ও ফ্যাশনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার ধারাবাহিকতায় পোশাকে ঢিলেঢালা স্টাইল যোগ হয়েছে বলা চলে। কারণ পোশাকে আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্য এই দুটো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
অ্যান্টি ফিট, লুজ ফিট বা ওভারসাইজড যে নামই দিন না কেন সবাই এই ট্রেন্ডের দিকে ঝুঁকছে। লুকে ভিন্নতা আনতে, গরমে স্বস্তির জন্য আঁটসাঁট পোশাকে যে অস্বস্তি, তা থেকে মুক্তি দিতে ধীরে ধীরে ঢিলেঢালা আরামদায়ক ফেব্রিকসের পোশাক জায়গা করে নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডিজাইনার সুমন আন্দালিব বলেন, ওভারসাইজড ফ্যাশন সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা, ঢিলেঢালা সাইজের পোশাক বড় বলে মানানসই হয় না। কিন্তু এ রকম পোশাক পরেও যে কাউকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়। বড় সাইজের ব্যাগি শার্টের পাশাপাশি টিউনিক, স্কার্ট, প্যান্ট, শ্রাগ ও ওভারসাইজড পাওয়া যায়। ডিজাইনাররা আজকাল এ ধরনের আউটফিট বেশি নকশা করছেন আর ফ্যাশনপ্রিয়রাও কেনাকাটায় প্রাধান্য দিচ্ছেন এমন ধরনের পোশাক। আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা ব্র্যান্ড মসিনো কিংবা গুচির মতো ব্র্যান্ডের রিসেন্ট কালেকশনগুলোতে এ রকম আউটফিট দেখা যাচ্ছে।
কোন পোশাকে কাকে মানাবে
একেবারে আঁটসাঁট, টাই টফিট পোশাকের পরিবর্তে আকারে খানিক বড় বা ওভার সাইজ পোশাক-আশাকে স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাচ্ছেন তরুণীরা। বিশেষ করে যারা ওয়েস্টার্ন পোশাক পরে অভ্যস্ত, তারা বেছে নিচ্ছেন ঢিলেঢালা টি-শার্ট, ক্রেপটপ, প্যান্ট, ট্রাউজার, লুজ ফিটিং শার্টসহ অনেক ধরনের পোশাক। পোশাকের ধরনেও আছে নানা বৈচিত্র্য। ডেনিমের আবেদন সব সময় থাকলেও গরমে অনেকে ডেনিম পরতে দ্বিধায় থাকেন। তারা এ সময় বেছে নিতে পারেন ঢিলেঢালা ডেনিম প্যান্ট। প্যান্টের নিচে ফিটিং ন্যারো না রেখে বেলবটম স্টাইলটা বেছে নিতে পারেন। এর সঙ্গে ওপরে পরা যেতে পারে অফসোল্ডার ক্রপটপ বা ঢিলেঢালা টি-শার্ট। জাপানিদের কিমানো স্টাইলের পোশাকও খুব চলছে। তবে কিমানো পরতে চাইলে সচরাচর যে পোশাক পরেন তার থেকে এক বা দুই সাইজ বড় কিনলেই ঢিলেঢালা লুক পাবেন। এ সময় ফ্যাশনপ্রিয়দের কাছে কিমানো খুবই জনপ্রিয় পোশাক। এ ছাড়া যারা বাইরে বের হওয়ার সময় রেডি হতে খুব বেশি সময় নিতে চান না তারা বেছে নিতে পারেন ওভার সাইজ ব্যাগি শার্ট। এর সঙ্গে পরতে পারেন ফিটিং বা একটু শর্ট ডেনিম প্যান্ট বা জেগিংস।
একটু বড় শ্রাগ বা কটি বা ব্যাগি জ্যাকেট অনেককেই পরতে দেখা যাচ্ছে। টি-শার্ট, শর্টটপ বা মিড লেন্থের ঢিলেঢালা কুর্তার সঙ্গে শ্রাগ, কটি বা জ্যাকেট পরে ক্যাজুয়াল লুকে নতুনত্ব আনা যায়। ঢিলেঢালা ট্রাউজার, প্যান্ট ও পালাজ্জো রাজত্ব করছে তাও প্রায় বহুদিন হয়ে গেল। ফিটিং টপস ও টি-শার্টের সঙ্গে দারুণ জুটি ঢিলেঢালা ব্যাগি প্যান্ট বা ট্রাউজারের। ঢিলেঢালা স্ট্রাইপ প্যান্টের সঙ্গে একরঙা টপস পরা যায়। সঙ্গে স্পোর্টস ট্রাউজারও মানাবে। ম্যাক্সিজাতীয় পোশাকও পরা যায়। এর সঙ্গে বাটনবিহীন ডেনিম ভেস্ট ও জ্যাকেটও যোগ করে নিতে পারেন। এ ছাড়া ম্যাক্সি স্কার্ট থেকে শুরু করে এ-লাইন স্কার্ট, প্লিটেড স্কার্ট, এমনকি শর্ট লেয়ারড স্কার্ট মানানসই টপ বা শার্ট দিয়ে পরা যায়। আসলে স্কার্ট পরার অনেক সুবিধা হলো আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক, যা ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুটো লুকেই চলে।
পোশাকের মানানসই
একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, নতুন ট্রেন্ড ও স্টাইল মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগে। তবে সমন্বয়টা জরুরি। যেমন টপস ও বটমসের কম্বিনেশন দুটো মানানসই ও আকর্ষণীয় হওয়া প্রয়োজন। শুধু ওভারসাইজড কোনো পোশাক পরলেই হলো না, ঠিকভাবে পরা হচ্ছে কি না, সেটাও দেখতে হয়। বিগ সাইজ টপ পরলে স্লিম ফিটেড বটমস পরা যায়। যাতে দুটোর সমন্বয় ও কনট্রাস্ট ঠিক থাকে। ঠিক তেমনি ঢিলেঢালা বটমসের সঙ্গে ফিটেড টপস দেখতে স্টাইলিশ। আরও নির্দিষ্টভাবে বললে টপস যদি ওভারসাইজড শার্ট, টি-শার্টও টিউনিক হয়, তাহলে সঙ্গে স্কিন টাইট ট্রাউজার বা টাইটস মানানসই ও ট্রেন্ডি। অন্যদিকে বটমসে পাল্লাজো বা বিগ সাইজের ট্রাউজার যদি পরেন, তাহলে টপসে একটু ফিটেড হওয়া ভালো। কারণ, তাতে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখায়। ওভারসাইজের মধ্য থেকে খানিকটা শেপ দেখাতে চাইলে অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করতে পারেন। যেমন বেল্ট। তবে মিনিম্যালিস্টিক ফ্যাশনের মন্ত্র লেস ইজ মোর এই ধারা প্রযোজ্য। যতটা সম্ভব অ্যাকসেসরিজ কম পরা উচিত। একটি বেল্ট অথবা শোল্ডার ব্যাগই যথেষ্ট কিংবা জুতা। এ ক্ষেত্রে পায়ের জুতাটা সিম্পল হওয়া ভালো, হিল বা চকমকে স্টোনবেইজড জুতা একেবারেই না।
র্যাকফিটের ডিজাইনার রিয়াজুল কমল বলেন, ‘ডিজাইনাররা এই ওভারসাইজড স্টাইলকে আরও কমফোর্টেবল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফেব্রিকসের ওজন ও কোয়ালিটির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, যাতে এই পোশাক আরও আকর্ষণীয় দেখায়। এ ছাড়া মেয়েদের চিক ও ফেমিনিন দেখানোর জন্য কাট ও প্যাটার্ন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চলছে।’
কোথায় কেমন পোশাক
ওভারসাইজড পোশাক মূলত ক্যাজুয়াল লুকের জন্যই মানানসই। তাই ফরমাল অনুষ্ঠানে চেষ্টা করা উচিত না পরার। তবে এমন ধরনের পোশাক যে একেবারেই পরা যাবে না তা নয়। এ ছাড়া ঢিলেঢালা ফ্যাশনের সব আউটফিট যে বিগ সাইজ হবে, এমন নয়। টপ অথবা বটমসে ফিটেড আউটফিট থাকা প্রয়োজন। সিমপ্লিসিটি এই ট্রেন্ডের বড় বৈশিষ্ট্য। তাই যতটা সম্ভব মেকআপ ও অ্যাকসেসরিজ কম পরা ভালো। শুধু অ্যাকসেসরিজের মাধ্যমেও এই স্টাইল ফুটিয়ে তোলা সম্ভব, সেজন্য বিগ সাইজ অ্যাকসেসরিজ পাওয়া যায়। তবে স্বতঃস্ফূর্ত থাকাটা জরুরি।
ডিজাইনার ফায়েকুজ্জামান বাদশা বলেন, ‘ওভারসাইজড ফ্যাশন ট্রেন্ডে পোশাকের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে বড় সুবিধা হলো বডিশেপ নিয়ে কারও দ্বিধায় পরতে হয় না। এ ধরনের পোশাক ওজন কম বা বেশি সবাইকেই মানায়। আবার গরমের সময়টায় পোশাক যদি গায়ের সঙ্গে লেগে থাকে, তাহলে ঘাম বেশি হয়। আর গরমও বেশি লাগে। এই পোশাকে এ ধরনের সমস্যা নেই। তাই গরমে এই স্টাইলের পোশাক বেছে নেওয়ার প্রবণতা একটু বেশিই দেখা যায়।
কোথা থেকে কিনবেন
ওভারসাইজড পোশাক দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে যেমন পাবেন, তেমনি ওয়েস্টার্ন আউটফিটের জন্য প্রসিদ্ধ টুইয়েল, লারিভ, ওকোড, ফ্রিল্যান্ড, ক্যাটসআই এবং আড়ং বাংলাদেশের ত্যাগা কালেকশনেও পাবেন। অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকেও কিনতে পারবেন। বিশেষ করে আজকের ডেল, দারাজ, ফ্যাশন বিডি উল্লেখযোগ্য।