আতঙ্ক ও উদ্বেগ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১৬ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। শেষ হয় দুপুর ১টায়। তবে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মিয়ানমার সীমান্তে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নেওয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে আজ পরীক্ষায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১৯ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও ৪১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। আরও ২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছেন।
উখিয়ার কুতুপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মিয়ানমারের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতে খবর আসে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দেবে উখিয়া কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কারণে রাতভর পরীক্ষা কেন্দ্রের সিট থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোছাইন সজীব জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪১৬ জন শিক্ষার্থী কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। সকাল থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যার কারণে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, স্বাভাবিকভাবে একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরীক্ষা দিতে আসলে অনেকটা মাথায় টেনশন কাজ করে। তাই পরীক্ষা শেষে এসব শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি আগামী সব পরীক্ষা নিয়মানুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীর অভিভাবক শফিউল আলম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো থমথমে। আমরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছি। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সন্তানদের অন্যত্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।
একই কথা বললেন আরেক অভিভাবক হোসনে জয়নাব। তিনি জানান, প্রথমে সন্তানেরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছে খুব শান্তিপূর্ণভাবে। এতে কোনো সমস্যা হয়নি।

গত এক মাস ধরে মিয়ানমারের রাখাইনে আরকান আর্মি ও সেদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি চলছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শুক্রবার ঘুমধুম কোনারপাড়া নো ম্যান্স ল্যান্ডে মর্টারশেল নিক্ষেপ করার এক রোহিঙ্গা নিহত ও ৬ জন আহত হওয়ার পর সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘুমধুমের এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রটি সরিয়ে নিকটবর্তী কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল এসে পড়েছে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কোনারপাড়া এলাকায়সহ পুরো সীমান্ত এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
