উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে হেনস্তা করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল বাশার রাজ, সাবরিনা শাহরিনা রশিদ, শাহরিয়ার আবেদীন, নৃবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষার্থী স্প্লিন্টারবিদ্ধ সজল কুন্ডু, পরিসংখ্যান বিভাগের নওরীন জামান, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির হালিমা খানম ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রক্তিম সাদমান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৬ জানুয়ারি পুলিশি হামলার পর যেসকল শিক্ষার্থী আন্দোলনের সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। 'শিক্ষার্থীদের নিয়মিতই ক্লাসে শিক্ষকদের টিজের শিক্ষার হতে হচ্ছে। ক্লাসে অহেতুক প্রশ্ন করে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।'
এমনকি এক শিক্ষার্থী থিসিস করতে চাইছে; কিন্তু তার চাহিদার আলোকে কোনো শিক্ষকই তাকে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক নয় বলে জানান রাজ। এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে ভিসিবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে রাজ জানান।
রাজ বলেন, ৫টি দাবি এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে ৮ দফা প্রস্তাবনা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছিল মন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু এতদিন পরেও আমরা দেখছি শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলার মূল হোতা ফরিদ উদ্দিন আহমদ শাবির উপাচার্য পদে বহাল আছেন। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাসমূহ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার কথা ছিল; কিন্তু এত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মামলাগুলো তোলা হয়নি।
'১৬ জানুয়ারির হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সজল কুন্ডু' উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাকে অন্তত নবম গ্রেডের একটি চাকরি এবং নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সজল এখনো শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বা চাকরি কোনোটাই পাননি। এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সজল কুন্ডু যে ক্যাফেটেরিয়াটি চালাতেন সেটিও কেড়ে নিয়েছে।
তার 'একমাত্র কর্মসংস্থানের উপায় কেড়ে নেওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে' উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, এমনিতেই স্প্লিন্টার ও বোমার মারাত্মক ক্ষত নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে সজলকে। একই সঙ্গে সজলের সামনে নতুন আতঙ্ক হয়ে এসেছে চরম অর্থসংকট। এ ছাড়া সজলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হবে এমন আশ্বাসও তারা পেয়েছিলেন; কিন্তু কেউই এখন দায়িত্ব নিচ্ছেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়িত করতে হবে, অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিতে হবে- এ তিন দফা দাবিতে স্প্লিন্টারবিদ্ধ সজল কুন্ডু একাই গত ১১ দিন যাবৎ শাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীও দাঁড়িয়েছেন।
এদিকটি উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'আমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সজল কুন্ডুর ওই দাবির সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছি। তার কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার চাকরি ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানাচ্ছি।'
