আসছে ১ অক্টোবর থেকে শুরু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শারদীয় এ উৎসবকে ঘিরে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। দেবী দুর্গাকে পূজামন্ডপে স্থাপন করতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে তারা এখন ব্যস্ত রং-তুলির আঁচড় ও সাজসজ্জায়। করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর দুর্গাপূজা সীমিত পরিসরে আয়োজন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় এবার মন্ডপে মন্ডপে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :
ময়মনসিংহ : করোনা মহামারীর বড় প্রভাব পড়েছিল ময়মনসিংহের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা কারিগর মৃৎ শিল্পালয়ে। তবে এবারে ভাগ্য যেন ফিরল তাদের। করোনা পরবর্তী গত দুই বছরের তুলনায় এবারের দুর্গাপূজাতে মৃৎ শিল্পালয়ে বেড়েছে কাজের ব্যস্ততা। গত বছরের তুলনায় জেলায় এবার ২৯টি বেশি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবার জেলায় সর্বমোট ৮১৪টি পূজাম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নগরীর জুবলিঘাট ধর্মশালার মৃৎশিল্পী জয়ন্ত পাল জানান, বছরজুড়ে তেমন একটা ব্যস্ততা না থাকলেও দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মাসখানেক আগে থেকে বেড়েছে ব্যস্ততা। করোনা মহামারীর কারণে আমাদের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। তবে এ বছর প্রতিমা তৈরির সংখ্যা বেড়েছে। দামও কিছুটা বেশি পাওয়া যাবে।
তবে, বয়োজ্যেষ্ঠ মৃৎশিল্পী শম্ভু দাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এবার জেলার বিভিন্ন স্থানের বেশ কিছু প্রতিমার অর্ডার নিয়েছি। দুই মাস ধরে ৪ জন শ্রমিক নিয়ে দিনরাত প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। কিন্তু প্রতিমা ডেলিভারির সময় যে পারিশ্রমিক পাব, তাতে শ্রমিক মিটিয়ে খুব একটা পোষাবে না।
বড় কালীবাড়ির মৃৎশিল্পী জয় চন্দ্র পোদ্দার জানান, এ বছর সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় প্রতিমা বানাচ্ছি। আমাদের পারিশ্রমিক সেভাবে বাড়ছে না।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক শংকর সাহা জানান, শুধুমাত্র মহিলা পূজারীদের আয়োজনে এবারও ময়মনসিংহ শহরের শিববাড়ি মন্দির ও মুক্তাগাছা সদরেও শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ : জেলায় এবার ৪৩৫টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। শিল্পীদের হাতের কারুকাজে প্রতিমার কাঠামো সেজে উঠেছে। প্রতিমার কারিগররা ৮ থেকে ১০টি করে প্রতিমা নিয়ে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলায় এ বছর ৪৩৫টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সর্বজনীন ৪২৩টি ও ব্যক্তিগত ১২টি পূজামন্ডপে এ পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কম আলোকসজ্জা ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
ঝালকাঠি : ইতিমধ্যে মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর পরেই শুরু হবে রং-তুলির কাজ। পৌর শহরে ১৩টিসহ জেলার চার উপজেলায় মোট ১৭৪টি পূজামন্ডপ তৈরি হয়েছে।
ঝালকাঠি শহরের পাবলিক হরিসভা মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা তৈরির কারিগর প্রতিমা শিল্পী উত্তম কুমার পাল বলেন, আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।
হাকিমপুর (দিনাজপুর) : হাকিমপুরের হিলিতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। দেবী দুর্গাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন কারিগররা। তবে আগের চেয়ে কাজ বাড়লেও ব্যয় বাড়ার কারণে খরচ নিয়ে শঙ্কিত কারিগররা।
কারিগর শ্রিদাম পাল বলেন, এবারে হিলিতে ৬টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। ইতিমধ্যে কাজ শেষ পর্যায়ে।
টাঙ্গাইল : দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের শিল্পীরা। এ বছর টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় এক হাজার দুইশ ৮৪টি পূজাম-ন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
তারটিয়া এলাকার প্রতিমা তৈরির কারিগর বসন্ত পাল বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এবার আমি ১০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। আমার কারখানায় দুই-তিনজন কর্মচারীসহ পরিবারের লোকজন নিয়ে প্রতিমা বানাচ্ছি। বর্তমানে খড়, বাঁশ, মাটি, লোহাসহ সবকিছুর দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে আমাদের এখন পোষায় না।
তারটিয়া এলাকার সন্ধ্যা রানী পাল বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পঞ্চমীর রাতের আগেই আমাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হবে। এজন্য আমরা এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছি।
