বগুড়ায় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বাবা জাকির হোসেনের (৪৫) বিরুদ্ধে।
এঘটনায় ঘাতক বাবাকে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
মধ্যযুগীয় বর্বর এই ঘটনা ঘটেছে সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে জেলার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের উঁচুলবাড়িয়া গ্রামে। আটক জাকির হোসেন ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
শেরপুর থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির প্রথমটি মেয়ে সন্তান। এরপর জাকিরের প্রত্যাশা ছিল ছেলের। কিন্তু আবারও মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। পারিবারিক কলহের জেরে পাষণ্ড জাকির হোসেন তার চৌদ্দ মাস বয়সী ঘুমন্ত শিশু হুমায়রা খাতুনকে সোমবার গভীর রাতে কোনো এক সময় পুকুরের পানিতে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে।
মঙ্গলবার ভোররাতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন এলাকাবাসী। পরে জাকির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে বাবা জাকিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।
নিহত শিশুটির মা রাবেয়া খাতুন বলেন, মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে দেখি আমার মেয়ে হুমায়রা খাটের ওপর নেই। পরে পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে বিষয়টি জানাই। সেই সঙ্গে আমার বোন-দুলাভাইকে খবর দেই। এরপর প্রতিবেশীরাসহ সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্তানকে না পেয়ে একাধিকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। একপর্যায়ে আমার স্বামীকে চাপ দেন তারা। পরে মেয়েটিকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন স্বামী।
জাকিরের ভায়রা সাইফুল ইসলাম বলেন, জাকিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভোররাতে পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালানো হয়। পরে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর জাকিরকে আটক করে থানায় খবর দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
শিশুটির বাবা জাকিরের বক্তব্য জানতে চাইলে পুকুরে ছুড়ে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। হঠাৎ মাথা গরম হওয়ায় এমন কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাসান বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
