আগের ম্যাচে দারুণ চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিল আরব আমিরাত। মাত্র ৭ রানে পরিশ্রমী জয় ছিল বাংলাদেশের। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওই লড়াই দিতে পারেনি স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ দাপুটে ক্রিকেট উপহার দিয়ে সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় ৩২ রানে। সঙ্গে ২-০তে সিরিজও জেতা হয়। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর এলো এই জয়। দ্বিতীয় ম্যাচে কাক্সিক্ষত প্রস্তুতিও নিতে পেরেছে সফরকারীরা।
আগের মতো এ ম্যাচেও টস হেরে ব্যাটিংয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে। আগের মতো ভুল শটে দ্রুত বিদায়ের পাল্লা ভারী হয়নি এবার। সবার ব্যাটেই ছিল রান। তাই ১০ ওভারে ৮৩ রান এসেছে বোর্ডে। এই গতি অবশ্য পরের ১০ ওভারে ছিল না। শেষ ওভারের শেষ বলে অধিনায়ক সোহানের ওই ছক্কাটা না এলে রান গত ম্যাচের মতোই হতো। ওই ওভারে আসে ১৪ রান। যা শেষ ৫-এ সর্বোচ্চ রানের ওভার। এছাড়া মোট ৪৩ রান এসেছে এই সময়ে। গত ম্যাচে এই সময়ে ৫০-এর ওপর রান পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারেই ইনিংসে মোট ৫ ছক্কার চারটি আসে বাকি একটি সাব্বিরের শুরুর ওভারে। মাঝের ওভারগুলোয় ছক্কার মার ছিল না একটিও।
দলীয় সর্বোচ্চ ৪৬ এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে। ৩৭ বলে ৫ চারে সাজানো তার ইনিংসটি অবশ্য সঠিক টি-টোয়েন্টি সুলভ ছিল না। তবুও হাত খোলার সময়ই আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউ হন। সাবির আলির বলটি স্পষ্টত লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছিল। তবুও আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। এছাড়া সাব্বির রহমান বাদে বাকি ব্যাটাররা বল তুলে মারতে গিয়েই আউট হন। সাব্বির ৯ বলে ১টি করে ছক্কা ও চারে ১২ করে ফেরেন। লিটন দাশ ২০ বলে করেন ২৪। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলা আফিফ এবার ১০ বলে করেন ১৮। শেষের ওভারগুলোতে লোয়ার মিডলঅর্ডার ব্যাটারদের ওপর বড় শটের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু ইয়র্কার লেন্থের ফুলটস, সঠিক সময়ে স্লোয়ার বলগুলোয় বড় শট খেলা সম্ভব ছিল না ব্যাটারদের। তাই মোসাদ্দেক ২২ বলে ২৭, ইয়াসির আলি ১৩ বলে ২১ ও সোহানের ১০ বলে ১৯ রানই যা একটু এগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে।
রান তাড়ায় গত ম্যাচের মতো প্রভাব ফেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। পার্টটাইম হিসেবে হাত ঘুরাতে আসা মোসাদ্দেক হোসেনই ব্যবধান গড়ে দেন। পরপর দুই বলে দুই উইকেট ম্যাচের গতি বাংলাদেশের দিকে ফিরিয়ে দেয়। পাওয়ার প্লের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আমিরাত। অধিনায়ক রিজওয়ান ও বাসিল হামিদ মিলে ৯০ রানের জুটি গড়লেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। রিজওয়ান ৩৬ বলে অপরাজিত ৫১ ও হামিদ ৪০ বলে ৪২ রান করেন।
আরব আমিরাতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিতেই গিয়েছে বাংলাদেশ। দুই জয়ে সেই লক্ষ্যটা পূর্ণ। তবুও ম্যাচ শেষে টি-টোয়েন্টি কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরাম জানালেন আসল চ্যালেঞ্জটা অপেক্ষা করছে নিউজিল্যান্ডে। যেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানদের আসল টি-টোয়েন্টি পরীক্ষা তো সেখানেই।
