পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: নিহত ও নিখোঁজ পরিবারের পাশে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:৫৮ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাটে নৌকা ডুবিতে নিহতদের মধ্যে নয়টি পরিবারকে ১৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়া এ রকম অতিদরিদ্র ৯টি পরিবারে এই সহায়তা দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা ৯টি পরিবারের মাঝে কাউকে ৩ লাখ, কাউকে ২ লাখ ও কাউকে এক লাখ করে মোট ১৫ লাখ টাকা, ১টি করে খাদ্যসামগ্রীসহ পূজার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের একটি প্যাকেট বিতরণ করেন।

পরে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন নৌকাডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় নৌকার মাঝিদের কাছে ১৪টি লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেন।

সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সহায়তা হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম।

এ সময় চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, সুজি, নারিকেলসহ শুকনো খাবারের একটি বাক্সও তুলে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক এমন বিপদে এগিয়ে আসায় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, স্বজন হারানো বেদনা আমরা বুঝি, আমরা যেন শোক কাটিয়ে উঠে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারি। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিবারের জন্য আয়বদ্ধক কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত নিহত ও নিখোঁজ ৭২টি পরিবারকে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও দুই বস্তা শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা সবাই একে অপরের প্রতিবেশী হিসেবে আরেক প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়াতে আমাদের এখানে আসা। কোনো দাতা হিসেবে অনুদান দিতে আমরা এখানে আসিনি। আমরা জানাতে এসেছি সারা বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের পাশে আছে। আমরা বিশ্বাস করি আজ যেসব পরিবার সহায়তা গ্রহণ করেছেন তারাই একদিন প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়াবেন।

বোদা উপজেলার শিংপাড়া এলাকার মনিরাম চন্দ্রের ছেলে প্রদীপ চন্দ্র (৩৫) ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। সাত ও ছয় বছরের দুই সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে নৌকা ডুবিতে প্রদীপ চন্দ্র মারা যান। বাড়ি ভিটে ছাড়া কিছুই নেই প্রদীপের। ঘটনার পরদিন লাশ পাওয়া যায়। প্রদীপের স্ত্রী চন্দনার হাতে তিন লাখ টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় চন্দনা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আশীর্বাদ করবেন, যেন ছেলে দুইটাকে মানুষ করতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত