বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। তিনি ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য দুনিয়াতে এসেছিলেন। তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড ইনসাফ প্রতিষ্ঠার এক অসাধারণ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আজ রবিবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল হয়।
এ সময় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতৃবৃন্দ মহানবীর জীবন ও কর্ম নিয়ে বক্তব্য দেন। দোয়া ও মিলাদে অংশগ্রহণ করেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন ভুইয়া শিশির, আমিনুল ইসলাম, একরামুল হক বিপ্লব, মৎস্যজীবী দলের সদস্যসচিব মো. আবদুর রহিম, ওলামা দলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, সদস্যসচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, হাফেজ মাসুম বিল্লাহসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) মহান আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে পাঠিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার সকল কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয় যে, তিনি মহানবী হবেন।
রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। গোত্রে গোত্রে বিভক্ত আরবের মানুষকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি পৌত্তলিকতা ও মূর্তি পূজার পরিবর্তে একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। আজকে সমাজে তার নমুনা মাত্র নেই। সমাজে চলছে হানাহানি, মিথ্যাচার অন্যায়। মহানবী (সা.) ইসলামের রাজ কায়েমের পর সবাই নিরাপদে ছিলেন। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা যেমন নিরাপদে ছিলেন তেমনি অমুসলিমরাও ছিলেন নিরাপদ।
তিনি বলেন, কাবাঘরে কালো পাথর রাখার ব্যাপারে বিভিন্ন গোত্রের মাঝে যে বিভেদ দেখা দিয়েছিল সেই বিবাদ মহানবী নিরসন করেছিলেন। তিনি চার গোত্রের প্রধানের সমন্বয়ে হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর যথাস্থানে রাখার ব্যবস্থা করেন। এটা শুধু নিছক ঘটনা নয়। এখান থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
‘তিনি ছিলেন বিবাদ নিরসন করার অনন্য দৃষ্টান্ত। তার আদর্শ সম্পূর্ণ না মানলেও কিছুটা যদি মানতাম, অনুসরণ করতাম তাহলে সমাজে এত হানাহানি ও অন্যায় থাকত না। শুধু আলেমেরা নন, যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে তাদের উচিত এসব অনুসরণ করা।’ বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, মহানবী (সা.) ইসলামের রাজ কায়েমের পর সবাই নিরাপদে ছিলেন। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তারা যেমন নিরাপদে ছিলেন তেমনি অমুসলিমরাও ছিলেন নিরাপদ। সবাই মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতেন। আমরা তেমনই জনকল্যাণকর রাষ্ট্র চাই। যেখানে জনগণ তাদের মতপ্রকাশ করতে পারবে, ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে।
