রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে মিরপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রায় চার ঘন্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিলে সড়ক ছাড়েন তারা।
ঘটনাস্থলে কামরুন নাহার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই শাখা এখান থেকে সরবে না। এটি বন্ধের তো কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। তবে স্কুলের একার পক্ষে স্থায়ী ক্যাম্পাস করা সম্ভব না। অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চেষ্টা করব স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে। তোমরা সড়ক থেকে সরে যাও।’
শিক্ষার্থীরা লিখিত চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার কথাটাই কি যথেষ্ট না? লিখিত কেন লাগবে?’
এরপর সড়ক ছেড়ে যেতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ভাড়া বাড়িতে ভিকারুননিসার ধানমন্ডি ক্যাম্পাস শুরু হয়। কিন্তু এই ক্যাম্পাসের আকার বড় না হওয়ায় শিক্ষার্থী বাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে বাড়ির মালিক বারবার ভাড়া বাড়াচ্ছেন। এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাস ছেড়ে দিতে একাধিকবার নোটিশও দিয়েছেন। বর্তমানে এই ক্যাম্পাসের জন্য প্রতিমাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা লস গুনতে হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ আগামী বছর থেকে প্রথম শ্রেণিতে ছাত্রী ভর্তি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছিল। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে বেইলি রোড, আজিমপুর ও বসুন্ধরা শাখায় পাঠানোরও পরিকল্পনা নেয়া হয়।
এ শাখা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এমন গুঞ্জনে গত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন অভিভাবকরা। ধানমন্ডিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস করার দাবিতে ভিএনএসসি (ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ) ঐক্য পরিবার, ধানমন্ডি শাখার ব্যানারে অভিভাবকরা শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি স্কুলের সামনে তারা লিফলেটও বিলি করছিলেন গত কয়েক দিন ধরে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে তারা স্কুল ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বেরিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের মোড়ে এসে অবস্থান নেন। ফলে মিরপুর সড়কের এক পাশে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অভিভাবকরা বলেন, ‘আমার বাচ্চা এখানে পড়ে। এই শাখা বন্ধের পাঁয়তারা চলছে। কেন এটা বন্ধ করে দেওয়া হবে? এই অপচেষ্টা বন্ধের প্রতিবাদে আমরা আজকে রাস্তায় নেমেছি।’
আরেকজন অভিভাবক বলেন, ‘এই শাখাটা জীর্ণ অবস্থায় আছে, এমন অজুহাতে এই শাখা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে আমরা শুনছি। আমাদের বাচ্চাদের অন্য শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানানো হয়নি স্কুল থেকে। এত বছরের পুরানো একটা শাখা কেন বন্ধ করে দেওয়া হবে? কোনো সমস্যা থাকলে সেটার সমাধান করা হোক।’
