পাওয়ার প্লেতে ফিন অ্যালেন। মাঝের ওভারগুলোয় গাপটিলকে নিয়ে কনওয়ে। আর শেষ বেলায় ফিলিপস ঝড়ে টাইগারদের ২০৯ রানের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
আজ টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব। অল্প রানেই বেধে ফেলার ছক এঁকেছিলেন। তবে তার পরিকল্পনাতে জল ঢেলে দেন কিউই ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করেছে ৫৪ রান।
সিরিজে প্রথমবার একাদশে জায়গা পাওয়া সাইফউদ্দিনকে দিয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারটি করিয়েছিলেন সাকিব। এক চারসহ সে ওভার থেকে আসে ৮ রান। দ্বিতীয় ওভারে শরিফুল ইসলাম এসে দিলেন আরও ৯ রান। বাধ্য হয়ে সাকিব তৃতীয় ওভারে বোলার বৈচিত্রের পথ বেছে নেন। তৃতীয় ওভারে নিয়ে আসেন দলে ফেরা এবাদত হোসেনকে।
তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এই পেসার। প্রথম দুই বলে কোনো রান না দিলেও তৃতীয় বলে হজম করেন ছক্কা। চতুর্থ বল ডট দিলেও পঞ্চম বলে ফের ছক্কা হজম করতে হয় তাকে। শেষ বলে ফিন অ্যালেন নিলেন তিন রান। তাতে নিজের প্রথম ওভারে ১৫ রান হজম করতে হয় এবাদতকে।
চতুর্থ ওভারে আর কারও ওপর ভরসা করেননি। নিজেই বল হাতে তুলে নেন। সেই ওভার থেকে নিউজিল্যান্ড সংগ্রহ করে ৯ রান। পরের ওভারে নতুন কোনো বোলারকে ডাকেননি। শরিফুলের হাতে বল তুলে দেন। আগ্রাসী ব্যাটে খেলতে থাকা ফিন অ্যালেন প্রথম বলেই মারলেন চার।
দ্বিতীয় বলে শরিফুলে শর্ট লেঙ্গথের ডেলিভারিটি মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন ফিন অ্যালেন। তবে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়াসির রাব্বি তা তালুবন্দী করে নেন। কিউইদের ৪৫ রানে টাইগারদের প্রথম ব্রেক থ্রো আসে। ফেরার আগে ১৯ বলে ৩২ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। যা সাজানো ছিল ৩ চার ও ২ ছক্কায়।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে নিউজিল্যান্ড। মার্টিন গাপটিলকে সঙ্গে নিয়ে কনওয়ে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। সেটি ভেঙে টাইগারদের দ্বিতীয় ব্রেক থ্রো এনে দেন এবাদত হোসেন। ঠিক প্রথম উইকেটের পতন হয়েছিল যেভাবে, এবারও সেই একই দৃশ্য ফিরে আসে।
চতুর্দশ ওভারের প্রথম বলে এবাদতকে চার মারলেন গাপটিল। দ্বিতীয় বলেই ফুল টস দিলেন তিনি। সেটা লং অন দিয়ে ছক্কা মারার চেষ্টা করেছিলেন গাপটিল। কিন্তু ব্যর্থ হন, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত তা লুফে নেন। ফেরার আগে কিউইদের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার ২৭ বলে ৩৪ রানের একটি ইনিংস খেলেন। যা সাজানো ছিল তিন চার ও এক ছক্কায়।
১৬ ওভার শেষে যখন কিউইদের রান ১৬১, তখনও টাইগার বোলাররা নিতে পেরেছিলেন মাত্র দুটি উইকেট। তখন ফের বল হাতে তুলে নেন সাইফউদ্দিন। ইনিংস শুরুর পর মাঝে আরও একটি ওভারও করেছিলেন। তৃতীয় ওভারে এসেই কনওয়েদের দুর্গে হানলেন জোড়া আঘাত। প্রথম বলেই ফেরান কনওয়েকে। ৪০ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৪ রান করেছিলেন তিনি। সাইফ একই ওভারের চতুর্থ বলে ফেরান চাপম্যানকে।
তবে তাতেও দমে থাকেননি কিউই ব্যাটাররা। শেষ দিকে গ্লেন ফিলিপস রীতিমত ব্যাটিং তান্ডব শুরু করেছিলেন। আগ্রাসী ব্যাটে ১৯ বলেই তুলে নেন অর্ধশতক। কনওয়ের মতো তারও এটি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি। শেষ ওভারে এবাদতের বোল্ড আউট হওয়ার আগে তিনি ২৪ বলে ৬০ রান করেছিলেন। দুই চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি।
অ্যালেন-কনওয়ের শুরুর পর শেষ দিকে ফিলিপস ঝড়ে নিউজিল্যান্ড পায় ২০৮ রানের বড় সংগ্রহ। টাইগারদের হয়ে সাইফ ও এবাদত দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া শরিফুল নিয়েছেন একটি উইকেট।
