আওয়ামী লীগ নেতাদের চোখের চিকিৎসা করাতে বললেন প্রিন্স

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৫৮ পিএম

‘বিভাগীয় গণসমাবেশে হামলা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও বানচাল করার ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিচ্ছে’ উল্লেখ করে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, আওয়ামী লীগ এত অপকর্ম করেছে যে, জলাতঙ্কের মতো জন আতঙ্কে ভুগছে। সে জন্য জনসমাবেশের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে।

১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের গণসমাবেশে বাধা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।

এমরান সালেহ প্রিন্স বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট বাজারে গণসংযোগ ,পথসভা, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রচার মিছিল ও কর্মীসভায় যোগ দিয়ে এসব বলেন ।

এসব কর্মসূচিতে এমরান সালেহ প্রিন্স জনসাধারণসহ নেতাকর্মী ,সমর্থকদের প্রতি ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের গণসমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান । 

তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার পাগলের প্রলাপ বকছে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে যারা নিজেদের সমাবেশে লোক জমায়েত করতে পারে না, তারা হামলা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সত্ত্বেও  বিএনপির সমাবেশে লাখ লাখ লোকের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে দিশেহারা হয়ে বলেন, বিএনপির সমাবেশে নাকি নেতাকর্মীরাই যোগ দিচ্ছে না। 

তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের চোখের চিকিৎসা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওরা চোখ থাকতেও অন্ধ।

তিনি বলেন, গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে বিএনপির গণসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে, এটা স্বপ্ন নয় বাস্তব। গণআন্দোলনকে যারা স্বপ্ন বলেন, তাদের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে নির্বাচন করতেও তাদের ভোট চুরি করতে হয়। তাদের ভোট চুরি, অনিয়মের কারণে গাইবান্ধার বন্ধ হওয়া নির্বাচনকে যারা নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু বলেন, তাদের এবং ভোটাধিকার রক্ষা ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না। গাইবান্ধায় নির্বাচনের নামে চরম প্রহসনে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের আবশ্যকতা ও গ্রহণযোগ্যতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

এসব কর্মসূচিতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, আবদুল হাই, আবু হাসনাত বদরুল কবির, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, আবদুল হামিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন, আলী আশরাফ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নীলু, সহসভানেত্রী মনোয়ারা বেগম ময়না, জেলা যুবদলের সহসভাপতি আবদুল আজিজ খান, হুমায়ুন কবির, তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আসিফ, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সাকিব, উপজেলা বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান মল্লিক, মিজানুর রহমান মিজান, আবদুস সাত্তার, ক্বারী আবুল কাশেম, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল গণি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিন খান, সদস্য সচিব আলিমুল ইসলাম, পৌর আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দুলাল, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসিফ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাইমুর আরেফিন পাপন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাজবীর হোসেন অন্তর, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আকিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব আলী আজগর, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, জাসাস আহ্বায়ক রাশেদ আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

এর আগে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সকালে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি, জেলা ও মহানগর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং সদর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। 

এসব সভায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় গণসমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ।

সভায় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, আলমগীর মাহমুদ আলম, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত