ইবনে তুলুন মসজিদ নামে প্রসিদ্ধ আহমদ ইবনে তুলুন মসজিদ মিসরের কায়রোর একটি প্রাচীন মসজিদ এবং একটি প্রাচীন নিদর্শন। তুলুন সরকারের প্রতিষ্ঠাতা আহমদ ইবনে তুলুন ৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর নতুন অংশে এই মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন। মসজিদটি একটি বড় পাথরের ওপরে নির্মিত হয়েছে এবং এটি একটি ঝুলন্ত মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। ইবনে তুলুন মসজিদ আয়তনের দিক থেকে মিসরের বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি।
মিসরে আব্বাসীয় শাসনের যুগের এ আরব স্থাপত্য খুবই আকর্ষণীয়। যা হাজার বছরের মুসলিম সোনালি যুগের উন্নত নির্মাণশৈলীর গৌরব বহন করছে। আদি কাঠামো পুরনো নকশা টিকে থাকার যুক্তিতে একে গণ্য করা হয় নগরীর সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ। আর জমির আয়তনের ভিত্তিতে এটি কায়রোর সবচেয়ে বড় মসজিদ।
মিসরে আব্বাসীয় রাজ্যপাল (গভর্নর) আহমদ ইবনে তুলুনের নেতৃত্বে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ৮৭৭ সালে, আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ৮৭৯ সালে।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি একটি ছোট পাহাড়ের ওপর নির্মিত, যার নাম জেবেল ইয়াশকুর (ধন্যবাদ দেওয়ার পাহাড়)।
স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, মহাপ্লাবনের পর হজরত নূহ (আ.)-এর কিস্তি আরারাত পাহাড়ের পরিবর্তে বিশ্রামের জন্য এখানে ভেড়ে। ঐতিহাসিক মসজিদটি ইটের তৈরি। এতে রয়েছে দু’টি গম্বুজ এবং একটি মিনার। মিনারটির কাঠামো পেঁচানো ঘরানার। তার মানে এ কাঠামো ঘিরে সিঁড়িধার ওপরের দিকে উঠে গেছে। ইরাকের বিখ্যাত সামারা মসজিদের মিনারের সঙ্গে এই মসজিদের মিনারের সাদৃশ্য দেখা যায়।
ইবনে তুলুন মসজিদ কয়েকবার পুনর্নির্মাণ করা হয়, যাতে আদি কাঠামো বা নকশা টিকিয়ে রাখা হয়। ১১৭৭ সালে প্রথমবারের মতো মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। আর সর্বশেষ এটি পুনর্নির্মাণ করা হয় ২০০৪ সালে।
গভর্নর তুলুন মসজিদটি অত্যন্ত পছন্দ করতেন এবং এটি নির্মাণের জন্য তিনি গর্ববোধ করতেন। প্রায়শই তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথিদের মসজিদে নিয়ে যেতেন। একবার তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে বসে চামড়ার ওপর আঙুল তুলছিলেন। অতিথিদের মধ্যে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কী করছেন। রাজ্যপাল জবাব দিয়েছিলেন, তিনি একটি মিনার ডিজাইন করছেন যা মসজিদের পাশে নির্মিত হবে। পরে মিনারটি সেভাবে নির্মাণ করা হয়।
ইবনে তুলুন মসজিদটি বছরের পর বছর ধরে কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, সময়ের কারণে দেয়ালগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, ফটকগুলো দুর্বল হয়েছে, নানা সময়ে মসজিদটি সংস্কার
