শেষ ১৮ বলে ছক্কার মারেও জিম্বাবুয়ের পেছনে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:৩০ এএম

দ্রুত সেট হয়ে কম বলে বেশি রান করা ব্যাটাররাই টি-টোয়েন্টিতে ‘ইমপ্যাক্টফুল’। দেশের ক্রিকেটে কয়েকদিন ধরে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ এই ‘ইম্প্যাক্ট’। এ সংস্করণে যা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ইনিংসের শেষের ওভারগুলোতে। তবে টাইগারদের যত গরমিল সব ওই শেষ তিন ওভারে। এ ওভারগুলোতে সবচেয়ে পিছিয়ে তারা। মারতে পারেন না ছক্কাও। শেষ আঠারো বলে ‘প্রভাব’ বিস্তারে জিম্বাবুয়ের চেয়েও পিছিয়ে টাইগাররা।

চলতি বছর বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ১৬টি। যার মধ্যে শেষ তিন ওভারে ছক্কা মারতে পেরেছে মাত্র ১৭টি। যেখানে বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ (৩১) ম্যাচ খেলা ভারত তিনগুণ বেশি ছক্কা মেরেছে। ঐ ওভারগুলোতে তাদের ছক্কা মারার সংখ্যাটি ৫১। এছাড়া জিম্বাবুয়েও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এ সংস্করণে টাইগারদের সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে তারা শেষ তিন ওভারে ছক্কা মেরেছে ২৫টি।  

এ বছর বাংলাদেশ প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। গত ৩ মার্চের সেই ম্যাচে শেষ তিন ওভারে টাইগাররা কোনো ছক্কাই মারতে পারেনি। পরের ম্যাচে আসেনি একটিও।

এরপর দীর্ঘ চার মাস পর ২ জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামে টাইগাররা। বৃষ্টির কারণে এদিন খেলা নেমে এসেছিল ১৩ ওভারে। সেই ম্যাচে শেষ ওভারে নুরুল হাসান সোহানের ব্যাট থেকে আসে দুটি ছক্কা। পরে ফের বৃষ্টি নামলে খেলা পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়।

পরদিন ক্যারিবিয়ানদের সঙ্গে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ তিন ওভারে তিনটি ছয় পায় টাইগাররা। আঠারোতম ওভারের শেষ বলে মোসাদ্দেক ছক্কা মেরেছিলেন। পরের ওভারের দ্বিতীয় ও শেষ বলে সাকিবের ব্যাট থেকে আসে আরও দুটি ছয়। ৭ জুলাই সিরিজের ইতি টানার ম্যাচে শেষ তিন ওভারে টাইগার ব্যাটসম্যানরা ছক্কা আদায় করতে পারেননি।

একই মাসের শেষের দিকে জিম্বাবুয়ে সফরে যায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সেই সিরিজে টি-টোয়েন্টিতে  নতুন শুরুর লক্ষ্য নিয়েছিল টাইগাররা। নুরুল হাসান সোহানকে অধিনায়ক করে পাঠানো হয় তখন। ৩০ জুলাই প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে টাইগাররা শেষ তিন ওভারে মাত্র দুটো ছক্কা আদায় করে। ছক্কা দুটি মারেন নুরুল হাসান সোহান।

পরদিন দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরে টাইগাররা। ১৭.৩ ওভারেই খেলা জিতে যায় টাইগাররা। পনেরোতম ওভারের প্রথম বলে শেষ ছক্কা পেয়েছিল টাইগাররা। ২ আগস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচের আঠারোতম ওভারের তৃতীয় বলে একটি মাত্র ছক্কা পায় টাইগাররা।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ শেষে আগস্টের শেষে বাংলাদেশ যায় এশিয়া কাপ খেলতে। অন্তত সুপার ফোর খেলার লক্ষ্য ছিল তাদের। কিন্তু গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের। টুর্নামেন্টের দুই ম্যাচে শেষ তিন ওভারে ছক্কা মাত্র একটি।

পরে বাংলাদেশ ফের সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে যায়। সেখানে ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর দুটি ম্যাচ খেলে। প্রথম ম্যাচে শেষ তিন ওভারে দুটি ছয় আদায় হয়। শেষ ম্যাচেও সমান দুটি ছক্কা পায় টাইগাররা।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে নিউজিল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যান সাকিব আল হাসানরা। ৭ অক্টোবর নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ১৮ বলে ইয়াসিরের ব্যাটে দুটি ছক্কা পায় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচে সোহানের ব্যাট থেকে আসে দুটি ছক্কা। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ঐ ১৮ বলে আসেনি কোনো ছক্কা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত