লোডশেডিংয়ে পাওয়ারলুম ব্যবসায় ধস!

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:৪৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সকাল বিকাল বিদ্যুৎ থাকছেই না। কোনও শিফটেই কাপড় নামানো যাচ্ছে না। এর ফলে পাওয়ারলুম ব্যবসায় নেমে এসেছে চরম মন্দাভাব।

আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদীবাজার এলাকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, এমনিতেই গ্রে-কাপড়ের ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আগে পার্টি আসতো। এখন বাজার মন্দা তাই পার্টি কমে গেছে। এরই মধ্যে 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা' লোডশেডিং।

জানাগেছে, আড়াইহাজার উপজেলার সর্বত্র পাওয়ারলুম ব্যবসায় ধস নেমেছে। কোনো অবস্থাতেই এই ব্যবসার মন্দাভাব কাটছে না। অনেক ব্যবসায়ী ক্রমাগত লোকসানের চাপে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা টিকে আছেন তারা এক রকম লড়াই করেই টিকে আছেন। গোপালদী ও আড়াইহাজার এলাকার প্রধান ব্যবসা হলো পাওয়ারলুম। এই ব্যবসায় ধস নামায় সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

রামচন্দ্রদী গ্রামের পাওয়ারলুম ব্যবসায়ী সিরাজুল জানান, প্রতিমাসে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে। গত তিন চার মাসে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণে তার ব্যবসার এখন নিভু নিভু অবস্থা। তিনি বলেন, সপ্তাহের দুইটি হাটবারে (মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার) বেচাকেনা নেই বললেই চলে। আগে প্রতি সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ পেটি গ্রে-কাপড় বিক্রি করতাম।

আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী গ্রামের মজিবুর জানান, গত কয়েক মাস ধরে আর্থিক সংকটের কারণে পাওয়ারলুম সেক্টরে বিরাজ করছে চরম মন্দাভাব। অনেক ছোট ও মাঝারি আকারের মিল বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু মাথার ওপর রয়েছে ব্যাংক ঋণের কিস্তির বোঝা।

তিনি আরও জানান, আমি অনেক বছর ধরে পাওয়ারলুমের ব্যবসা করি। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে ও স্থানীয় বাজারে তার কাপড় বিক্রি হয়। ঢাকার পোস্তগোলা, শ্যামপুর, কদমতলি, রসুলপুর, জুরাইন ও আশপাশের এলাকা থেকে পার্টিরা এসে আড়াইহাজার থেকে গ্রে-কাপড় কিনে নিয়ে যায়। গ্রে-কাপড় কিনে নিয়ে তারা ডাইংয়ে দিয়ে দেয়। ডাইংয়ে গ্রে-কাপড়কে প্রথমে সেলাই করে রুলারের মতো পেঁচানো হয়। কারণ গ্রে-কাপড়গুলো সাধারণত পিস আকারে কিনতে হয়। এক পিস কাপড় লম্বায় ৬ গজ। এজন্য গ্রে-কাপড়ের পিসগুলোকে প্রথমে সেলাই করে জোড়া দিতে হয়। এরপর মাড় দিয়ে ফিনিশিং করার পর তা পাঠানো হয় ছাপাখানায়। রুলার বানানোর পর রিজেক্ট বের হলে পার্টি সেই কাপড় ফেরত দেন। সামান্য রিজেক্ট পেলেও বড় বড় পার্টি কাপড় ফেরত পাঠায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই গুণতে হয় লোকসান। রিজেক্ট গ্রে-কাপড় ছোট ছোট পার্টি কেনে। পিস প্রতি ২০/৩০ টাকা ছাড় দিয়ে বিক্রি করে ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে হয়। কিন্তু বর্তমানের মতো এরকম মন্দা বাজার আর দেখিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যেই অন্তত ৩০/৪০টি পাওয়ারলুম কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এই কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বেকার হবে হাজারো শ্রমিক। তাছাড়া কাপড়ের বাজারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আড়াইহাজারের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আসাদুজ্জামান জানান, আমরা চেষ্টা করছি লোডশেডিং কমিয়ে আনতে। তবে একটু সময় লাগবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত