মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পদ্মা নদীতে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।
পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটের ব্যবস্থাপক পান্না লাল নন্দী বলেন, ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঘাট এলাকায় সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাস বেড়ে যাওয়ায় নদীতে উত্তাল ঢেউ উঠেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাট পয়েন্টের বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক আব্দুল সালাম বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭ ফেরির মধ্যে ১১টি চলাচল করছে। নদী উত্তাল ও স্রোত থাকায় ফেরি পারাপারে বেশি সময় লাগছে। ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত ফেরি থাকলেও যানবাহনের চাপ নেই।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রবল বর্ষণে রাস্তাঘাট এমনকি নিচু এলাকার পানি জমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে আছে।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) ভোর থেকে মানিকগঞ্জে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। দিনভর বৃষ্টিতে জনজীবন বিপযস্ত হয়ে পড়েছে। ঘূর্নিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবেই এই বৃষ্টি।
একটানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির তীব্রতার কারণে সব কাজকর্ম থেমে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকাল থেকেই শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা। খুব কমসংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। টানা বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জের নিচু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত।
টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকার রবিশস্যের ক্ষেত ও শীতকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নিচু জমির আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
রিকশা, ভ্যান চালকরা সোমবার সকাল থেকে কাজে বের হতে পারেননি। মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
এ দিকে জেলার যমনা ও যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকা হরিরামপুর ও শিবালয়ের কিছু এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, এ উপজেলার আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছিল। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
