অস্ট্রেলিয়ানরা এমনিতেই আছে দুশ্চিন্তায়। নিউজিল্যান্ডের কাছে উদ্বোধনী ম্যাচে হারের পর আজ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচ না জিতলে বিশ্বকাপ শেষ তাদের। এই সময়ে পুরনো ক্ষতে খোঁচা মেরে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটালেন ফাফ ডু প্লেসিস। তার প্রকাশিত আত্মজীবনীতে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম লজ্জার ঘটনা তুলে আনলেন। ২০১৮ সালের শিরিশ কাগজ কাণ্ড ফিরে এলো তাতে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ঠিক আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আসা মিচেল মার্শকে এ নিয়ে প্রশ্নও শুনতে হলো। মার্শ যদিও ‘এখন বাইরের কথা নয় শ্রীলঙ্কা ম্যাচ নিয়েই ফোকাস আমাদের’ বলে এড়িয়ে গেছেন।
ডু প্লেসিসের আত্মজীবনী ‘ফাফ : থ্রু ফায়ার’ শিগগিরই প্রকাশিত হবে। বইটিতে ২০১৮ কেপটাউন টেস্টে হওয়া কা-ের বিস্তারিত লিখেছেন সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক। ডু প্লেসিসের বিশ্বাস, ওই ঘটনায় স্টিভ স্মিথের খুব একটা ভূমিকা ছিল না। স্মিথের শাস্তিটাও বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
আত্মজীবনীতে সেই ম্যাচে প্রোটিয়া অধিনায়ক ডু প্লেসিস লিখেন টেস্টে হওয়া ঘটনার আরও আগে থেকেই তাদের সন্দেহ হচ্ছিল যে অস্ট্রেলিয়ানরা বলে কিছু একটা করছে, ‘ডারবানে প্রথম টেস্টের সময় আমরা প্রথম বুঝতে শুরু করি অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা অবিশ্বাস্য রিভার্স সুইং পাচ্ছে। মিচেল স্টার্ক ওই টেস্টে ৯ উইকেট পায়। আমি ওকে সেরা পেসারদের একজন মনে করি। তবে ওই টেস্টে ডারবানের পিচে ওই রকম সুইং আমি আমার ক্যারিয়ারে খেলিনি। সুইংগুলো একদম না খেলার মতো ছিল। আমাদের বোলাররাও রিভার্স করার চেষ্টা করত কিন্তু ওদের মতো একদমই হতো না।’
প্রথম টেস্টে বলের অদ্ভুত আচরণের পর দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ানদের ওপর নজর রাখেন প্রোটিয়ারা, ‘আমরা বুঝলাম যে বলে কিছু একটা করছে কেউ। পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে তাই আমরা বাইনোকুলার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডারদের ওপর নজর রাখি। আমরা দেখলাম বল বেশিরভাগ সময় ডেভিড ওয়ার্নারের হাত হয়ে বোলারদের হাতে যাচ্ছে। তখন আমরা পাখি দেখার মতো লুকিয়ে ওর ওপর নজর রাখতে শুরু করি।’ ডু প্লেসিস মেনে নেন দক্ষিণ আফ্রিকাও আর সব দলের মতো বল রিভার্স করানোর জন্য বিভিন্ন উপায় বের করে। এই আফ্রিকান নিজেও ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে বলের কন্ডিশন বদল করতে গিয়ে আইসিসির নিয়ম ভঙ্গ করেন। শাস্তিও পান। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাজকে অতিরিক্ত মনে করেন প্লেসিস। সেখানে স্মিথের ব্যাপারে সহমর্মিতা দেখান প্লেসিস। ঘটনার সময়ই সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে মুঠোফোন বার্তায় সান্ত¡না দিয়েছিলেন।
এতদিন পর অস্ট্রেলিয়ার এই লজ্জার ঘটনা বিশ্বকাপের সময়ই উঠে এলো। নিজেদের অতীত ফিরে আসায় বিশ্বকাপ দলে থাকা ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ বিব্রতবোধ করবেন। তাতে বিশ্বকাপের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটবে। সেই প্রশ্নটাই করা হয়েছিল মিচেল মার্শকে। ২০১৮ কেপটাউন টেস্টের দলে ছিলেন না তিনি। তবুও ঘটনা পাশ কাটিয়ে গেলেন বেশ ভালো ভাবেই, ‘আমি সাধারণত বই পড়ি না। তো জানিও না কী বের হয়েছে বা কী লেখা হয়েছে। তবে এটা নিশ্চিত করতে পারি অতীতের এই ঘটনার ব্যাপারে আমরা কেউই কান দিচ্ছি না। আমরা এখন একটা বিশ্বকাপের মধ্যে আছি এবং এটাতেই কঠোর ফোকাস রাখছি।’
