পাটগ্রাম সীমান্তে দুই দেশের মানুষের মেলবন্ধন

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২, ০১:১১ এএম

কাঁটাতারের বেড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যে বাধা হলেও আত্মার বন্ধন এ বাধাকে ছাপিয়ে হাসি, কান্নায় এক অভূতপূর্ব আনন্দে পরিণত করে। কালীপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দুই দেশের নিকটাত্মীয়দের দেখা ও কথা বলার সুযোগ হয়। এ সময় সীমান্তে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসব লোকজন একসময় এক দেশের বাসিন্দা থাকলেও দেশভাগের সময় এবং পরে ছিটমহল বিনিময়সহ বিভিন্ন কারণে পৃথক দেশের বাসিন্দা হয়ে গেছেন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুই দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বী ছাড়াও মুসলমানসহ কয়েক হাজার আত্মীয়-স্বজন একে অপরকে একনজর দেখার জন্য ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে ভিড় জমান। এ সময় উভয় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন তাদের আপনজনদের দেখে আবেগাপ্লুত হন ও ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করেন। এ সময় তারা একে অপরের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট, চানাচুর, ফল, সাবান দেওয়া-নেওয়া করেন।

পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর মেচেরঘাট ও জুম্মারপাড় সীমান্ত এবং ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার কুচলিবাড়ী থানা সীমান্তে প্রায় দুই ঘণ্টা দুই দেশের মানুষ বেড়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পান। কালীপূজা উপলক্ষে বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল করে দুই দেশের মানুষদের কথা বলার সুযোগ দেয়।

জেলার বড়বাড়ী থেকে আসা গীতা রানী (৪৫) ভারতের মেখলিগঞ্জ এলাকার মাসতুতো ভাই গণেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে দেখা করতে পেরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি খুবই খুশি। দীর্ঘদিন ভাইটাকে দেখতে না পেরে মনটা ব্যাকুল ছিল। এখন বেশ ভালো লাগছে।’

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের কমলা কান্ত বলেন, ‘ভারতে থাকা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো, কথা বললাম। খুবই ভালো লাগছে।’

রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কুচলিবাড়ী ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. কফিল উদ্দিন বলেন, ‘সীমান্তে উভয় দেশের লোকজন দেখা করেছে, কথা বলেছে। সীমান্তে আমাদের বিজিবির টহল দল ছিল। অনেকের জমির ফসল নষ্ট হয়, এ জন্য আমরা কথা বলে দ্রুত সরে যেতে বলেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত