ফরিদপুরে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র নিমাই চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে মামলা করেছেন নগরকান্দা-সালথা উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবুর বিরুদ্ধে। বুধবার ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
এ মামলার আসামিরা শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু এবং মোহাম্মদ লিয়াকত মিয়া, মোহাম্মদ নাসির মাহমুদ ও মো. শহিদুল ফকির।
তাদের সবার বাড়ি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবরের জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ফারুক হোসেনের পক্ষে কাজ করেন নিমাই চন্দ্র সরকার। আর এমপি প্রার্থী লাবু চৌধুরীসহ আসামিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেনের পক্ষে কাজ করেন। আসামিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাতের পক্ষে কাজ করতে এবং চশমা প্রতীকে ভোট দিতে বলেন মেয়রকে। এদিকে মেয়র নিমাই চন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে আসামিরা তার ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। আসামিরা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ১ নম্বর আসামি তাকে হত্যার হুকুম দেন। সেই মোতাবেক ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর উপজেলা থেকে নিজ অফিসে ফেরার পথে দুপুর পৌনে তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পৌঁছালে ১ নম্বর আসামির হুকুমে ও ষড়যন্ত্রে আগে থেকে দুই, তিন ও চার নম্বর আসামিরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যার জন্য জোরে মোটরসাইকেল চালিয়ে তার গায়ের ওপর ওঠাতে গেলে তিনি সরে যান এবং জীবনে রক্ষা পায়। সাক্ষীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও দলীয় বিভিন্ন স্তরে জানান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিষয়ে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি জানান, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি জমা ও ফাইল করা হয়। আদালতের বিচারক ফরিদ আহমেদ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে রেকর্ড করেন এবং আগামী ৯ নভেম্বর মামলার অভিযোগকারী বাদী এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌর মেয়র নিমাই সরকার অভিযোগ করে জানান, তাকে হত্যা করে ফেলা হবে বলে আসামিরা হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনার পর বিষয়টি তিনি প্রশাসন ও দলের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছেন।
জানতে লাবু চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
