কৃষিজমিতে ড্রেজিংয়ের মাটি, বিপাকে কৃষকরা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২২, ১২:৪৫ এএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের ড্রেজিংয়ের মাটি ও বালি তীরবর্তী কৃষিজমিতে স্তূপাকারে ফেলে রাখায় কয়েকশ একর জমি দীর্ঘদিন অনাবাদি পড়ে আছে। স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসনের কাছে মাটি সরানো এবং জমি আবাদের ব্যবস্থা করার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এতে কৃষকরা নিরূপায় হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নদী খনন প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার ব্রহ্মপুত্র নদের খননকাজ করা হয়। ড্রেজিংয়ের ফলে উপজেলার টোক ইউনিয়নের আড়ালিয়া থেকে সনমানিয়া ইউনিয়নের ধানদিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার নদে নাব্যতা ফিরে এলেও জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ড্রেজিং করা বালি ও মাটি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদের খনন করা বালি ও মাটি নদীর তীরবর্তী উভয় পাশেই স্তূপাকারে রেখে দিয়েছে। এসব বালি ও মাটি পরবর্তী সময়ে সরিয়ে নেওয়া বা ওই এলাকায় জমিতে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। মাঝেমধ্যে কিছু মাটি কেউ কেউ চুরি করে বিক্রি করলেও শত শত বিঘা জমির মাটি এখন পর্যন্ত সরানো বা সমান করে দেওয়া হয়নি।

সনমানিয়া ইউনিয়নের চর সনমানিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. কাশেম মিয়া বলেন, ‘আমার জোত জমিতে চাষাবাদের জন্য নদী খননের মাটি ও বালি সরানোর আবেদন করেও অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না।’

একই এলাকার কৃষক আকরাম হোসেন, মনির হোসেন ও শাহজাহান মিয়া জানান, আগে তাদের জামিতে বোরো ধানসহ নানা রবিশস্য আবাদ হতো। নদীর বালি ও মাটি ফেলে রাখা এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে সেসব জমিতে কোনো ফসল আবাদ করতে পারছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদ খননের মাটি ও বালি উভয় তীরে রাখা হয়েছে। খনন করা মাটি যদি কৃষকদের জোত জমিতে রাখা হয়ে থাকে এবং তারা যদি ফসল ফলাতে না পারে, তাহলে এসব মাটি সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত