মাদারীপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে সন্তানের কথা বিবেচনা করে পুনরায় বাবা-মাকে বিয়ে দিলেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ জেলা প্রশাসন। মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদের উদ্যোগে সোমবার রাতে এ বিয়ের আয়োজন হয়।
তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খাগদী এলাকার কুদ্দুস সরদারের ছেলে মো. মিলন সরদারের সঙ্গে কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শওকত আলীর মেয়ে সুমি আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল।
জানা গেছে, বিয়ের পরে মিলন ও সুমির সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকে মিলন ও সুমির পরিবারে কলহ বাধতে থাকে। একপর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। পরবর্তীতে সুমি আক্তার বাদী হয়ে মাদারীপুর আদালতে স্বামী মিলনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ সময় মিলন রাগ করে সুমিকে তালাক দেন। সুমির দায়ের করা মামলাটি সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। ওই দিন আসামি মিলন ও মামলার বাদী সুমি এবং তাদের একমাত্র সন্তানসহ পরিবারের লোকজন আদালতে উপস্থিত ছিল। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণকালে একটি শিশু এজলাসের ভেতরে দৌড়া দৌড়া দৌড়ি করছিল।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছেলেটির পরিচয় জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয় জানায় যে, সে ওই মামলার আসামি ও বাদীর ছেলে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত মামলার বাদী সুমি আক্তার এবং আসামি মিলন সরদারকে সন্তানটির দিকে বিবেচনা করো সংসার করার পরামর্শ দেন। উক্ত পরামর্শ অনুযায়ী বাদী ও বিবাদী এবং তাদের পরিবার আপস নিষ্পত্তির বিষয়ে আলাপ-আলোচনার পর উভয়পক্ষের ভুল সংশোধন করে পুনরায় সংসার করবেন মর্মে আদালতকে অঙ্গীকারনামা দেয়। উভয় পরিবারের সম্মতির ফলে সোমবার রাতে পুনরায় নতুন কাবিন মূলে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মিলন ও সুমি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এ সময় উপস্থিত মাদারীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ, জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক, আইনজীবীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ বলেন, আদালত চলাকালে আমি জবানবন্দি নিচ্ছিলাম, তখন দেখলাম একটি শিশু এজলাসের ভেতরে দৌড়া দৌড়ি করছে। তখন জানতে পারলাম চলমান মামলার বাদী ও আসামির ছেলে। আমার মনে হলো দুজনের সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে সংসার হচ্ছে না। উভয় পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সব বিচারক, পরিবারের লোকজন ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সোমবার রাতে বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করি। ভেঙে যাওয়া একটি সংসার পুনরায় একত্রিত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
