বাছাইপর্ব পেরিয়ে সেরা দলগুলো আসবে বিশ্বকাপে। ভাগ হবে দুটি শিবিরে। সেখানে জমে উঠবে লড়াই। সেটা এতটাই জমজমাট হবে যে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। অস্ট্রেলিয়াতে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ জমে উঠেছে এভাবেই। দুই নম্বর গ্রুপে থাকা ছয় দলের পাঁচটি দলই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে এখনও টিকে আছে। গ্রুপ ১ এর গল্পটাও অনেকটা সেরকমই।
আগামীকাল অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। সেখানেই তারা নিজেদের ভাগ্য গড়ে নেবে। যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তান টাইগারদের চেয়ে ফেভারিট ছিল। তবে সেটা তারা ধরে রাখতে পারেনি। তাদের সঙ্গেই সমানতালে সেমির পথ এখনও খোলা রয়েছে টাইগারদের। তবে একটি জয় অনেক বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। জয়ের ব্যাপারে তাই আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।
ভারতের কাছে ৫ রানে পরাজয়ের পর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তার ওপর ভিরাট কোহলির বিরুদ্ধে ফেইক ফিল্ডিংয়ের অভিযোগ দুই দলের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জয়ের খুব কাছে এসেও যন্ত্রণাদায়ক পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
তবে ফলাফল যাই হোক না কেন, সেই খেলায় বাংলাদেশের উন্নতির কিছু জায়গায় স্পষ্ট ছাপ পড়েছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা লিটন দাস অবশেষে পেয়েছেন রানের দেখা। তার দুর্দান্ত অর্ধশতকের ইনিংসটি ম্যাচে জয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। নতুন বলে তাসকিন আহমেদের মিতব্যায়ী বোলিং ভারতের টপ-অর্ডারে কাপুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সবচেয়ে আশাজনক উন্নতিটা চেনা ছন্দে মোস্তাফিজুর রহমানের ফিরে আসার বার্তা।
ভারত ম্যাচে নুরুল হাসান আর তাসকিন আহমেদ শেষবেলায় যেভাবে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন সেটা অন্য ফল নিয়ে আসতে পারত, যদি মিডল-অর্ডাররা নিজেদের দায়িত্বটা সামলাতে পারতেন। সেটা না পারার ফলে শেষদিকে বাড়তি চাপ সামলাতে হয়েছে এ দুই ব্যাটারকে।
টাইগার ক্রিকেটারদের এসব ফাঁকগেুলো সম্পর্কে অবগত পাকিস্তান দল। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুবার একে অন্যকে মোকাবেলা করেছে। যদিও কোনোটিতেই বাংলাদেশ জিততে পারেনি।
পাকিস্তান শিবিরে উদ্বেগ বেড়েছে বিশ্বকাপে অধিনায়ক বাবর আজম ও ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানের ফর্মে না থাকা। টুর্নামেন্টের চারটি ম্যাচে তাদের উদ্বোধনী জুটি ১, ১৩, ১৬ ও ৪। সবগুলো ম্যাচেই বাবর আউট হয়েছেন দুই অংকের রানে পৌঁছার আগে। তবে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার যেখানে নড়বড়ে, সেখানে পাকিস্তানকে ভরসা জোগাচ্ছে এই পজিশনে খেলা ব্যাটাররা। বিশেষ করে ইফতিখার আহমেদ ও শাদাব খান প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠতে পারার ক্ষমতা দেখিয়েছেন একাধিক ম্যাচে।
তাদের পাশাপাশি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম নিয়মিত অবদান রেখেছেন। পাকিস্তানের বড় ভরসার নাম তাদের পেস অ্যাটাক। চোট সেরে দলে ফেরা শাহিন আফ্রিদিও ফিরছেন ছন্দে। এছাড়া হারিস রউফ খরচের ক্ষেত্রে মিতব্যায়ী থাকার সঙ্গে নিচ্ছেন উইকেটও। তাদের গতি ও বাউন্স মোকাবেলা করাই হবে টাইগারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে এই দল নিয়েই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছে পাকিস্তানকে। সেই জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কাঙ্ক্ষিত দুই জয় পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দাপুটে লড়াই আর সিকান্দার রাজাদের কাছে বাবর আজমদের হার তাই সাকিবদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।
সেই অনুপ্রেরণাকে শক্তি হিসেবে মেনে টাইগারদের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামও পাকিস্তানকে হারানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী, ‘আমি বিশ্বাস করি ছেলেরা পাকিস্তানকে হারাতে পারবে। সেই আত্মবিশ্বাস এবং সামথ্র্য আছে ক্রিকেটারদের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুযোগ থাকলে আমরা সেমিফাইনালে যোগ্যতা অর্জনের জন্য সেরাটা দিয়েই লড়াই করব। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেরা চারে ওঠার সমীকরণটা আমাদের হাতে নেই।’
