রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ১ লাখের বেশি সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। ইউক্রেনেরও একই পরিমাণ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের অন্তত ৪০ হাজার সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মার্ক মিলে এই দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা দ্য ইকোনমিক ক্লাব অব নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে বুধবার তিনি এক কথা বলেন। খবর এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
মার্ক মিলে বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, ইউক্রেনে এক লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত অথবা আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের দিকের হতাহতের সংখ্যাটাও সম্ভবত একই।’ এছাড়া ইউক্রেনের অন্তত ৪০ হাজার সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। আট মাসের বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য গতকালই পাওয়া গেল।
মার্ক মিলে আরও বলেন, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। রাশিয়া বা ইউক্রেন কারও পক্ষেই এই যুদ্ধে সামরিক বিজয় অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে।
মার্ক মিলে বলেন, প্রকৃত অর্থে সামরিক উপায়ে যে বিজয় অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে, বিষয়টি সব পক্ষের বুঝতে হবে। তাই যুদ্ধের অবসানে অন্য উপায় অবলম্বন করতে হবে। মার্ক মিলে বলেন, ‘এখানে...একটি সুযোগ আছে, আলোচনার একটি সুযোগ আছে।’
সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও কয়েক বছর চলার আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে কৌশলী হতে পরামর্শ দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র গোপনে ইউক্রেনীয় নেতাদের উৎসাহিত করছে, কিয়েভ যেন রাশিয়াকে ইঙ্গিত দেয় যে তারা শান্তি আলোচনায় আগ্রহী। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আলোচনা চলছে বলেও খবর বেরিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৯-৮৯ সালের আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত রাশিয়ার মাত্র ১৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছিল। সে যুদ্ধেও রাশিয়া হেরে গিয়েছিল। সে তুলনায় ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি।
সত্যিকারের সমস্যায় আছে রুশ সেনারা
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ খেরসন শহর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দখল করে রুশ সেনারা। কিন্তু দীর্ঘ আট মাস দখলে রাখার পর শহরটি থেকে পিছু হটছে তারা। বুধবার ইউক্রেনে নিযুক্ত রাশিয়ার কমান্ডার সের্গেই সুরোভিকিন খেরসন শহর থেকে নিজ সেনাদের প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।
এই শহর থেকে রুশ সেনাদের চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে ‘রুশ সেনারা সত্যিকারের সমস্যায় আছে।’
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, এমন সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন এবং এটি শীতের আগে ‘দুইপক্ষের সেনাদের অবস্থান ঠিক’ করার সুযোগ দেবে।
ইউক্রেনে কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর বড় শহরগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র খেরসন শহর দখল করতে সমর্থ হয়েছিল রাশিয়া। কিন্তু বুধবার রুশ কমান্ডার জানান খেরসনে রসদ সরবরাহ ও অবস্থান ধরে রাখা আর সম্ভব না।
রুশ সেনাদের পিছু হটা নিয়ে সন্দেহ ইউক্রেনের
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইল পোডোলিয়াক রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ানদের কথায় ও কাজে মিল নেই। ফলে রুশ কমান্ডার সুরোভিকিন খেরসন ছাড়ার কথা বললেও এখনই তারা এটি বিশ্বাস করবেন না। রুশ সেনারা সত্যিই খেরসন ছাড়ছে কিনা সেটি আগে দেখবেন। এছাড়া এখনই খেরসন শহরে ইউক্রেন তাদের সেনাদের পাঠাবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে টুইটে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রভাবশালী এ উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘কথার চেয়ে কাজের মূল্য বেশি। কোনো লড়াই ছাড়া রাশিয়া খেরসন শহর ছাড়বে এমন কোনো ইঙ্গিত আমরা দেখিনি। রুশ সেনাদের একটি অংশ শহরেই রয়ে গেছে এবং আরও রিজার্ভ সেনা পুরো অঞ্চলের দায়িত্বে আছে। ইউক্রেন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিজ অঞ্চল স্বাধীন করছে, টিভিতে দেওয়া মিথ্যা বক্তব্যের ওপর না।’
রুশ সেনারা কোনো শহর বা অঞ্চল থেকে পিছু হটলে সেখানে মাইন পুঁতে যায়। ফলে হঠাৎ করে ইউক্রেনের সেনারা খেরসন শহরে ঢুকে পড়বে না। যদিও গত দুই মাস ধরে ধীরে ধীরে খেরসন শহরের দিকে এগিয়ে আসছে তারা।
বৃহস্পতিবার খেরসনের দিকে এগিয়ে আসার সময় ইউক্রেনের সেনারা স্নিহুরিভকা শহরটি পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছে।
