নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মৃত ব্যক্তিদের ভোটে মাদ্রসার পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ওই কমিটির নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি করে নিজেদের পক্ষে ভোট নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার আনন্দপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে এসব অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহসানুল কবির নামে এক অভিভাবক এসব অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আহসানুল কবির কলমাকান্দার আনন্দপুর গ্রামের নুরুল হক মন্ডলের ছেলে।
অভিযোগে জানা গেছে, সম্প্রতি ভোটের মাধ্যমে আনন্দপুর আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে তিন অভিভাবক সদস্য ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে ওই কমিটির নির্বাচনে তাদের নামে ভোট পড়েছে। এ ছাড়া ৪০-৪৫ জনকে জালিয়াতি করে ভোটার বানিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে। অনেক ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিভাবককে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। মূলত মাদ্রাসা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হতে অধ্যক্ষ ও আহ্বায়ক অনিয়ম করেছেন।
এসব অভিযোগ উল্লেখ করে অনিয়ম-জালিয়াতির মাধ্যমে করা কমিটির অনুমোদন বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান অভিভাবক আহসানুল কবির।
তিনি জানান, আমার ছেলে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। অথচ ভোটার তালিকায় আমার নাম নেই। আমি প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় হতে পারিনি। এটা সম্পূর্ণ অনিয়ম। এমন আরো অনেকে আছেন যাদের সন্তান পড়ে অথচ তারা ভোটার তালিকায় নেই।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, আনন্দপুর আলিম মাদ্রাসায় অভিভাবকসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৪৯৭। গত ৬ অক্টোবর ওই মাদ্রাসায় ভোটের মাধ্যমে অভিভাবক, শিক্ষক, দাতা প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। পরে তাদের সিদ্ধান্তে কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হয়। বর্তমান সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন স্থানীয় লিয়াকত আলী নামে এক ব্যক্তি। এর আগে তিনি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদীত উল্লেখ করে বলেন, এক-দুইজন অভিভাবক মারা গেছেন। সেটা ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় খেয়াল করা হয়নি। এটা ইচ্ছাকৃত নয়। তবে মৃতদের নামে ভোট দেখানো হয়নি। আর ভুয়া ভোটারের বিষয়টি একেবারেই মিথ্যা। কমিটিকে বিতর্কিত করার জন্য একটি চক্র এসব অভিযোগ তুলছেন। নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। এখনো অনুমোদন হয়ে আসেনি।
মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সামনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। মৃত ভোটার বা ভুয়া ভোটারের বিষয়টি মিথ্যা। এটা বিতর্ক সৃষ্টি করার জন্যই একটি পক্ষ কাজ করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমএম ওয়াজেদ তালুকদার বলেন, অভিযোগটি এখনো হাতে পাইনি। পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাসেম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
