বিশ্বকাপের ৭৩ শতাংশ ফুটবলার ইউরোপের ক্লাবগুলোর

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০১:৫৬ পিএম

ফুটবল যজ্ঞ শুরু হচ্ছে রবিবার থেকে। কাতারের আল বায়েত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। শেষ চার বিশ্বকাপের সবগুলোর শিরোপাই গেছে ইউরোপে। এবারের বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবেও দাপট দেখা যাবে ইউরোপিয়ান দলগুলোর। শুধু তাই নয়, কাতারে অংশ নেওয়া দলগুলোর ৭৩ শতাংশ খেলোয়াড়রাই উয়েফার সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ক্লাবের হয়ে খেলেন। যদিও ৩২ দলের মধ্যে মাত্র ইউরোপ মহাদেশের দল ১৩টি। যে দলগুলোর খেলোয়াড়ের সংখ্যাটা মাত্র ৪০ শতাংশ।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের একটি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান এলটিটি স্পোর্টসের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

চ্যাম্পিয়নস লিগকে বলা হয় ক্লাব ফুটবলের বিশ্বকাপ। যেখানে বিশ্বের তাবড় তাবড় খেলোয়াড়দের পদচিহ্ন পড়ে। তাই ফুটবলাররাও মুখিয়ে থাকেন ইউরোপের লিগটিতে খেলতে পারে এমন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সেখানে এসে জড়ো হন তারা। অনেকের কাছে এটা তাই হয়ে উঠেছে ফুটবলের তীর্থস্থান। যে কারণে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর ৭৩ শতাংশ খেলোয়াড়ই ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এলটিটি স্পোর্টসের গবেষণা অনুসারে, ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় এবার বিশ্বকাপ খেলবেন। এই ক্লাবের ১৭ জন ফুটবলার এবার আছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে। এছাড়া বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটি থেকে এসেছেন ১৬ জন করে খেলোয়াড়। বিশ্বসেরা রিয়াল মাদ্রিদের রয়েছে ১৩ জন খেলোয়াড়।

image

এলটিটি স্পোর্টস জানিয়েছে, বিশ্বকাপে খেলবেন আট শতাধিক খেলোয়াড়। যার মাত্র ২৭% অন্যান্য মহাদেশের ক্লাবগুলির সঙ্গে খেলেন। রবিবার থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে কাতারি ক্লাব আল সাদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন খেলোয়াড়।

image

বর্তমান শতাব্দিতে ইউরোপিয়ান ফুটবলের দাপটে চাপা পড়েছে ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলের নান্দনিকতা। এই মহাদেশের বাইরে ২০০২ সালে ব্রাজিল শেষবার বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর থেকেই ইতালি, স্পেন, জার্মানি ও সবশেষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এসবই ইউরোপীয়ান ফুটবল দল। চলমান শতকে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর কাছে লোভনীয় ও আকর্ষণীয় টুর্নামেন্টের নাম হয়ে উঠেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। তবে এই টুর্নামেন্টের মান বাড়িয়েছেন বিদেশী ফুটবলাররা। রোনালদোর জনপ্রিয়তা যেমন আছে, তেমনি মেসি-নেইমারেরও তা আকাশচুম্বি।

পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় ইউরোপেই কাটিয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। কিশোর বয়সে সেনেগাল ছেড়ে চলে আসেন সাদিও মানে। নেইমারের শুরুটা সান্তোসে হলেও নিজের প্রথম বিশ্বকাপের আগে তিনি ব্রাজিল ছেড়ে বার্সেলোনায় চলে যান। মেসিসহ আর্জেন্টিনার ২৩ ফুটবলারকে দেখা যায় ইংল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি, ইতালিও ফ্রান্সের ক্লাবগুলো হয়ে মাঠ মাতাতে।

শুধু এসবই নয়, ইউরোপিয়ান ফুটবলে যেন প্রতিভার ছড়াছড়ি। এলটিটির গবেষণা অনুসারে ইতালিয়ান ক্লাবগুলো থেকে ৭০ জন খেলোয়াড় বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত হয়েছিল। দ্বিতীয় স্তরের দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ২৯ জন খেলোয়াড়কে বাছাই করা হয়েছিল। যদিও সেখানে ছিলেন ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত