মোবাইল ফোনের কল ধরে পরিচয়। অতঃপর প্রেম। একে অপরকে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন প্রেমিক যুগল। অতঃপর গোপনে বিয়ে। কিন্তু সেই সুখ টেকেনি দুই সপ্তাহও।
বিয়ের ১২ দিনের মাথায় ইদুর মারার ওষুধ ‘বুলেট’ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তানিয়া ও মোস্তাফিজ।
ঘটনাটি ঘটেছে লাখাই উপজেলার স্বজনগ্রামে রবিবার রাতে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে বাস করেন দরিদ্র আনছর মিয়ার পরিবার। তার মেয়ে তানিয়া বেগমের (১৮) সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার মুস্তাফিজুর রহমান হৃদয়ের (২৪)।
স্ত্রী ও সন্তান থাকলেও তা গোপন রেখেছিলেন হৃদয়। আত্মহত্যার ১২ দিন আগে তারা কোর্ট ম্যারেজ করেন। ফলে বিষয়টি মেনে নেননি তার প্রথম স্ত্রী ও অভিভাবক।
হৃদয়ের বাবা খলিল মিয়া মুঠোফোনে পুলিশকে জানান, বিয়ের আগে তার ছেলে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।
তানিয়ার মা আবিদা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়িতেই থাকতো হৃদয়। রবিবার রাত ৭টার দিকে তানিয়া ও মোস্তাফিজ হঠাৎ ছটফট করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা জানান গোপনে দুজনই ইদুর মারার বিষটোপ ‘বুলেট’ খেয়েছেন। সংকটাপন্নবস্থায় দুজনকে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে হবিগঞ্জে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পথিমধ্যে সামান্য ব্যবধানে দুইজনই মৃত্যুবরণ করেন।
লাখাই থানার ওসি মো. নুনু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
