আজ আল রায়ান স্টেডিয়ামে গ্যারেথ বেলরা যখন মাঠে নামবেন, কাতার থেকে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার দূরে ওয়েলসে ৩২ লাখ মানুষের মনেও ছুঁয়ে যাবে সেই শিহরন। দীর্ঘ ৬৪ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে যে ওয়েলস। বি গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে ওয়েলস। যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বকাপে ফিরেছে আট বছর পর। ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
বিশ্বকাপে আসার পথটা সহজ ছিল না ওয়েলসের জন্য। ইউরোপিয়ান বাছাইয়ে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করে তারা। প্লে-অফের সেমিতে অধিনায়ক গ্যারেথ বেলের জোড়ায় অস্ট্রিয়াকে হারানোর পর ফাইনালে জেতে ইউক্রেনের বিপক্ষে। ১৯৫৮ সালের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আসতে ভাগ্যও সহায় ছিল ওয়েলসের। তা না হলে বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে বেলের ফ্রি-কিক ঠেকাতে গিয়ে কেনই বা আত্মঘাতী গোল দিয়ে বসবেন ইউক্রেনের ইয়ারমোলেনকো।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ম্যাচটি বিশেষ। একে তো আট বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা, তাছাড়া আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজকদের একটি যুক্তরাষ্ট্র। তাই কাতারে ভালো কিছু করে নিজেদের ফুটবল সামর্থ্যরে প্রমাণ রেখে যাইতে চাইবে তারা। যুক্তরাষ্ট্র কনকাকাফ অঞ্চলে তৃতীয় হয়ে সরাসরি পেয়েছে কাতারের টিকিট।
শেষ ষোলোতে যেতে চাইলে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সেটি দুই দলই ভালো করে জানে। তবে ওয়েলসের সাম্প্রতিক সময়ের ফর্ম ভাবনার বিষয়। শেষ তিন ম্যাচে হেরেছে। তবে ইউরো ২০১৬ ও ২০২০-এ নকআউট রাউন্ডে পৌঁছেছিল ওয়েলস। যুক্তরাষ্ট্র শেষ দুই ম্যাচে সৌদির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র এবং জাপানের কাছে হারে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে শেষ ৯ ম্যাচে জিততে পারেনি। সেই ধারা এবার ভাঙতে চাইবে তারা।
ওয়েলসের মূল ভরসা বেল। দলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আনার পেছনে বড় ভূমিকা তার। ৩৪ বছরের বেল খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারেই। ফলে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ধারণা আছে তার। যা ম্যাচে কাজে দেবে। বেল ছাড়াও নজর থাকবে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার অ্যারন রামসির দিকে। জাতীয় দলের হয়ে ২০ গোল তার।
ওয়েলস ডিফেন্ডার বেন কাবানগো বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) খুব আক্রমণাতœক। আমাদের ডিফেন্সে সতর্ক থাকতে হবে। আর কাউন্টার অ্যাটাকে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের আক্রমণভাগে যে খেলোয়াড় আছে কাউন্টার অ্যাটাকে যে কোনো দলকে হতভম্ব করে দিতে পারি।’
ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ডার্কফোর্ড দলের বিশ্বকাপ খেলাকে দেখছেন ভিন্ন চোখে। তার কাছে এটি খেলাধুলার চেয়ে বড় কিছু। ‘বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিশ্বকাপ দেখা যাবে। তাদের অনেকে হয়তো আগে ওয়েলসের নামও শুনেনি। তাই এটি ভালো সুযোগ ওয়েলসে পরিচত করার। মানুষকে বোঝানোর যে ইউনাইটেড কিংডমে চারটি ভিন্ন রাষ্ট্র আছে। প্রত্যেকের আছে নিজস্ব ইতিহাস।’ বলেন ডার্কফোর্ড।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন সবশেষ বিশ্বকাপে খেলে জিও রেনা, জো স্কালি ও ইউসুফ মুসাহর বয়স ছিল ১১ বছর। কাতারে যুক্তরাষ্ট্র দলে আছেন এই তিনজনই। তাদেরও ছুঁয়ে যাবে ভিন্ন রকম অনুভূতি। যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাককেনি বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে কাজ করেছি এই মুহূর্তের জন্য। আমি মনে করি সবাই তৈরি।’
যুক্তরাষ্ট্র দলে আছে বেশ কিছু তারকা। ডিফেন্ডার সার্জিনো দেস্ত খেলেন এসি মিলানে। মিডফিল্ডে মূল ভরসা ম্যাককেনি। গেল অক্টোবরের ২৯ তারিখের পর জুভেন্তাসের হয়ে আর মাঠে নামেননি ম্যাককেনি। ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো পুলিসিচ খেলেন চেলসিতে। বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তিনি। আক্রমণভাগে মূল ভরসা তিনি। যুক্তরাষ্ট্র দলে ৮ জন খেলোয়াড় আছেন যারা ইংল্যান্ডের ক্লাবে খেলে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ওয়েলস ম্যাচে সমানে সমান লড়াইয়ের আভাস।
