সিরাজগঞ্জে শিশু ইমন হত্যায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৪২ পিএম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় শিশু ইমন (৬) হত্যা মামলায় ৫ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে নগদ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মো. এরফান উল্লাহ মঙ্গলবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের এপিপি ওয়াছ করনী লকেট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাজাপুর ইউনিয়নের চর মকিমপুর গ্রামের শিশু ইমন হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর মকিমপুর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে ওসমান (২৫), কোরবান আলীর ছেলে সোহেল (২৫) , আব্দুস সোবহানের ছেলে কাওছার (২৪) ও তামাই গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আল-আমিন (৩৫) ও হিরন (৩০)। এদিকে আদালত এ মামলায় মো. আলহাজ ও গোলামকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করেছেন।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশু ইমনের বাবা চাঁন মিয়া মালয়েশিয়ায় থাকেন। তার স্ত্রী মমতা খাতুন দুই সন্তান নিয়ে তার বাবার বাড়ি চর মকিমপুর গ্রামে বাস করেন।

মমতা খাতুন তার চাচা আলহাজ্ব আলীর কাছ থেকে জমি কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা বায়না দেন। পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রি করে না দেয়ায় টাকা ফেরত চাইলে চাচা আলহাজ্ব আলী টাকা ফেরত দেন না।

এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। টাকা চাওয়ায় আলহাজ্ব আলী ও তার লোকজন মমতা খাতুনের ছেলের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে মমতা খাতুনের শিশু সন্তান ইমন নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ইমনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। এ ঘটনায় তিনি বেলকুচি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী হাফেজ হাজীর একটি পরিত্যক্ত শৌচাগারের ভেতরে ইমনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।

এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে নিহত ইমনের চাচা সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষে অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ওয়াছ করনী লকেট ও এপিপি মো. মশিউর রহমান চৌধুরী মামলাটি পরিচালনা করেন।

আসামি পক্ষে আইনজীবী মো. শওকাত হোসেন ও মো. ফরিদ আলম (আলমগীর) মামলাটি পরিচালনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত