৫১ বছরেও স্বীকৃতি পাননি আনোয়ারার ৬ মুক্তিযোদ্ধা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩২ এএম

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫১ বছর। তবুও মন্ত্রণালয়ের গেজেটে নাম আসেনি ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সম্মুখসারির ছয় যোদ্ধার। তাদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই। এই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি চান তাদের স্বজনরা।

মুক্তিযুদ্ধে অন্যদের সঙ্গে অংশ নেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের মামুরখাইন গ্রামের আলী মিয়া চৌধুরী, তোরাব উদ্দিন দফাদার, জয়ন্ত নন্দী, শিলালিয়া গ্রামের অজিত সিকদার, ওষখাইন গ্রামের বজল আহমদ ও নুর হোসেন চৌধুরী। তারা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নির্দেশে পরৈকোড়ার রাজাকার কমান্ডার আবদুল হাকিম চৌধুরীর বাড়ি ঘেরাও,খাসখামা তহসিল অফিস ও গুজরা হাইস্কুলের রেকর্ডপত্র জ¦ালিয়ে দেওয়া,আনোয়ারার টেলিফোন লাইনের তার কেটে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান দিবস উদ্যাপনে বাধা দেওয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলায়ও আসামি হন তারা। চট্টগ্রামের পটিয়া এসডিও কোর্টে করা ৫৬৫ নম্বর ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আরেক আসামি স্কুলশিক্ষক সাধন চন্দ্র দাশের কাছ থেকে জোর করে লিখিয়ে নেওয়া জবানবন্দিতে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দেওয়া শুরু করেন। ওই সময় এই ছয় যোদ্ধা একসঙ্গে আনোয়ারা থানার তৎকালীন সার্কেল অফিসার (সিও) আফরোজ বখতের কাছে তাদের অস্ত্র জমা দেন। পটিয়া ও আনোয়ারায় হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই ছয় যোদ্ধা মারা যান আশির দশকে। ২০০৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন ওই ছয় যোদ্ধার স্বজনরা। আবেদনপত্রে তাদের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য সুপারিশ করেন তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়া আলী মিয়া চৌধুরীর নাতি নুরুল হুদা চৌধুরী, জয়ন্ত নন্দীর নাতি নিউটন নন্দী ও নুর হোসেন চৌধুরীর ছেলে ছাবের আহমদ চৌধুরী জানান, মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তাদের বাপ-দাদারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। দীর্ঘদিন তারা কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি।

আনোয়ারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবদুল মন্নান বলেন, ওই ছয়জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের পর তাদের অস্ত্র জমা দেওয়ার একটি দুর্লভ ছবি প্রমাণ করে তারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তবে এতদিন নাম তালিকাভুক্ত না হওয়ার পেছনে তাদের অবহেলা ছিল। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য তাদের আবেদন করা থাকলে নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করব।

আনোয়ারার ইউএনও ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, তারা যদি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি তা আমার জানা নেই। নতুন তালিকায় যদি তাদের নাম থাকে আমরা যাচাই-বাছাই করব। সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ আকর্ষণ করার প্রক্রিয়া চালাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত