সময় যত যাচ্ছে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিএনপি নেতা কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (ডিসেম্বর) থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বাসে আসার সুযোগ নেই। একারণে নেতা কর্মীরা অনেকেই এসেছেন বুধবার। আবার কিছু নেতা কর্মী বৃহস্পতিবার এসেছেন ট্রাক ভাড়া করে। রাজশাহী অভিমুখী প্রতিটি ট্রেনেই আসছেন বিএনপি নেতা কর্মীরা। সবগুলো ট্রেনই বিএনপি নেতা কর্মীতে ঠাসা। উত্তরাঞ্চলের সবগুলো জেলা থেকেই এরই মধ্যে নেতা কর্মীরা এসেছেন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত লোকজন আসবেন বলে জানিয়েছেন উপস্থিত নেতারা।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) কাকডাকা ভোর থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে ঈদগাহ মাঠ। সূর্য উঠতে না উঠতেই শুরু হয় রান্নার আয়োজন। বড় বড় পাতিলে হচ্ছে খিচুড়ি রান্না।

নওগাঁ থেকে আসা বিএনপি কর্মী আব্দুল জলিল বলেন, তারা তিনদিনের প্রস্তুতি নিয়ে বৃহস্পতিবার এসেছেন। নিজেরাই তাবু টাঙিয়েছেন। নিজেরাই রান্না করছেন। একসঙ্গে রান্না হচ্ছে। তাবুর ভেতরে বসে কয়েকজনকে মুড়ি খেতে দেখা গেলো। তারা বললেন, শুকনা খাবার নিয়ে এসেছেন আপদকালীন হিসেবে। কোন খাবার না জুটলে যাতে এগুলো খেয়ে বেঁচে থাকা যায় সেই জন্য। তবে এখন পর্যন্ত খাবার না পাওয়ার মত পরিস্থিতি হয়নি। নেতা কর্মীরা খাবার ছাড়াও সঙ্গে করে এনেছেন শীতের পোশাক। কাঁথা বালিশ আর কম্বল এনেছেন অনেক নেতা কর্মীই।
বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করছেন ঐসব এলাকার নেতারা। সেই সঙ্গে রাজশাহীর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল নেতারাও তাদের সঙ্গে দেখা করছেন। আড্ডা দিচ্ছেন। শুক্রবার সকালে ঈদগাহ মাঠে যান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তারা মাঠের নেতা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজ খবর নেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুই নেতা।

মিজানুর রহমান মিনু নেতা কর্মীদের দেখিয়ে বলেন, দেখেন কত নেতা কর্মী এসেছে। বাস বন্ধ করে, বাধা দিয়ে তাদের থামানো যায়নি। এগুলোতো দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতা কর্মী। আজও আসবে এর চাইতে আরও কয়েকগুণ। আর রাজশাহী জেলা ও মহানগরের নেতা কর্মীতো এখনো আসেই নি। আগামীকাল সকাল থেকেই সমাবেশ শুরু করতে চাই। মিনু বলেন, আমাদের যত নেতা কর্মী আসবেন মাঠে তাদের জায়গা দেয়ার সুযোগ নেই। পুরো রাজশাহী শহর ভরে যাবে বিএনপি নেতাকর্মীতে।
এদিকে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। রাজশাহী শহরের সবগুলো প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে রয়েছে পুলিশের অবস্থান।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সহিংস কিছু ঘটাতে না পারে সেজন্য আমরা সতর্ক আছি। শহরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ১৭টি পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোটা শহরেই নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে মাঠে পুলিশ রয়েছে। গোয়েন্দা শাখার সদস্যরাও কাজ করছেন। সমাবেশে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে এরই মধ্যে মাদ্রাসা মাঠে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে এই ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সমাবেশ উপলক্ষে অতিরিক্ত বিপুল সংখ্যক পুলিশ মাঠে রয়েছে। আরএমপির বিশেষ ইউনিট সিআরটি, বোম ডিসপোজাল টিম মাঠে আছে। কেউ যাতে কোন ধরনের গুজব ছড়াতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এজন্য সাইবার পেট্রোলিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
