সম্পাদককে মারধর: কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের ৯ নেতাকর্মী বহিষ্কার

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪৪ পিএম

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন ও পদ পদবী দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলা ও বেধড়ক মারধরে গুরুতর আহত করার ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের তিন সহ-সভাপতিসহ ৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাংগঠনিক প্যাডে সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বহিষ্কার হয়েছেন: জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শেখ সজিব, ফেরদৌস মাহমুদ অন্তর ও মীর আহসানুল হাসান অভি। এছাড়া কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্প্দাক সিজান আহমেদ রনি, মানব সম্পদ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক অনিক আহমেদ, কর্মী জুয়েল আহমেদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাফি রাতুল, সহ-সম্পাদক নাজমুস সাকিব এরং সাবেক আহ্বায়ক হাসিব কোরইশী।

এ বিষয়ে বহিষ্কার তালিকাভুক্ত সহসভাপতি শেখ সজিবকে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, ‘শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের বিষয়টি সঠিক। তবে তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী জাতীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি ঠিক বলতে পারছেন না। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে তার কিছু বলার নেই। তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানান সভাপতি।

এদিকে, প্রতিপক্ষের হামলায় আক্রান্ত শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ বলেন, ‘দলের মধ্যে লেবাসধারী কিছু প্রতিক্রিয়াশীল কুচক্রী ঘাপটি মেরে বসে আছে। এরা সুযোগ পেলেই নৃসংশ আচরণ করতে কোনো দ্বিধা করে না। আমার ওপর অন্যায়ভাবে যারা হামলা করেছিল তাদের বিচার দাবি করেছিলাম কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে’।

প্রসঙ্গত, ২২ নভেম্বর বিকেলে শহরের পিটিআই সড়কের একটি বাড়িতে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে ঘেরাও করে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে প্রকাশ্যে পুলিশের উপস্থিতিতেই গণপিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুরতর আহত ছাত্রলীগ নেতা হাফিজ চ্যালেঞ্জকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হাফিজ চ্যালেঞ্জের বোন বাদী হয়ে পরদিন হামলা-ভাঙচুর লুটপাট-মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। তবে ওই মামালার এজাহারভুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত